
নোয়াখালীর মাইজদীতে ড্রেন নির্মাণকাজের সময় অপরিকল্পিত খননের কারণে আল ফারুক একাডেমি স্কুল অ্যান্ড কলেজের সীমানা প্রাচীর ধসে পড়েছে। এতে কয়েকটি শ্রেণীকক্ষের মেঝে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় পাঠদান কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ।
সম্প্রতি মাইজদী শহরের আল ফারুক একাডেমি স্কুল অ্যান্ড কলেজে এ ঘটনা ঘটে। স্থানীয়ভাবে বিষয়টি আলোচনায় এলে সরেজমিনে গিয়ে দেয়াল ধসের সত্যতা পাওয়া যায়।
বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, সড়কের পাশের ড্রেন নির্মাণকাজে প্রয়োজনের তুলনায় বিদ্যালয়ের দিকের মাটি বেশি কেটে নেওয়ায় সীমানা প্রাচীরের ভিত্তি দুর্বল হয়ে পড়ে। এর ফলে প্রাচীরের একটি বড় অংশ ধসে যায়। পাশাপাশি কয়েকটি শ্রেণীকক্ষের মেঝেতে ফাটল ও ক্ষয়ক্ষতির সৃষ্টি হয়েছে। বিকল্প কক্ষের ব্যবস্থা না থাকায় শিক্ষার্থীদের পাঠদান স্বাভাবিকভাবে পরিচালনা করা সম্ভব হচ্ছে না।
বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক মো. নুরুল আলম জানান, প্রায় সাত মাস আগে ড্রেন নির্মাণকাজ শুরু হয়। কাজের একটি অংশ সম্পন্ন হলেও বিদ্যালয়ের পাশের মাটি কেটে দীর্ঘদিন ফেলে রাখার কারণে ভবন ও সীমানা প্রাচীর ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে। পরে তড়িঘড়ি করে কাজ শুরু করা হলেও ময়লা পানির চাপ ও নির্মাণকাজে অবহেলার কারণে দেয়াল ধসে পড়ে।
তিনি আরও বলেন, প্রথমে প্রাচীরের পূর্ব পাশের কিছু অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সর্বশেষ গত ৭ জুন দক্ষিণ পাশের মধ্যবর্তী অংশসহ বড় একটি অংশ ভেঙে পড়ে। এ ঘটনায় বিদ্যালয়ের অবকাঠামোগত নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ দাবি করেছে, ড্রেন নির্মাণের স্থান নির্ধারণে স্থানীয় কিছু প্রভাবশালীর প্রভাব ছিল। সড়কের বিপরীত পাশে পর্যাপ্ত জায়গা থাকা সত্ত্বেও বিদ্যালয়ের দিকের মাটি বেশি কেটে নেওয়ায় বর্তমান পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ড্রেন নির্মাণকাজের ঠিকাদার জসিম উদ্দিন। তার সহযোগী হিসেবে সুমন ও ইকবাল কাজটি তদারকি করছেন। তবে অভিযোগের বিষয়ে তাদের বক্তব্য জানতে চেষ্টা করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ দ্রুত ড্রেন নির্মাণকাজ সম্পন্ন করা, ক্ষতিগ্রস্ত সীমানা প্রাচীর পুনর্নির্মাণ এবং শ্রেণীকক্ষের মেরামতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছে।