মানিকগঞ্জ পৌর এলাকার একমাত্র কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালটি এখন যাত্রী ও পরিবহন শ্রমিকদের জন্য চরম দুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সামান্য বৃষ্টি হলেই পুরো টার্মিনাল চত্বর হাঁটু পানিতে তলিয়ে যাচ্ছে, সৃষ্টি হচ্ছে দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতা।
সরেজমিনে দেখা গেছে, টার্মিনালের বিভিন্ন স্থানে পানি ও কাদায় একাকার অবস্থা। বিশেষ করে মানিকগঞ্জ-নয়াডিঙ্গী রুটের বাসগুলোর যাত্রী ওঠানামার স্থানটি পানিতে ডুবে থাকায় নারী, শিশু, বৃদ্ধসহ সাধারণ যাত্রীদের চরম ভোগান্তির মধ্যে পড়তে হচ্ছে। নোংরা কাদা-পানি মাড়িয়ে বাসে ওঠানামা করতে বাধ্য হচ্ছেন তারা।
যাত্রী ও পরিবহন শ্রমিকদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে টার্মিনালের ড্রেনেজ ব্যবস্থা অকার্যকর হয়ে রয়েছে। ফলে সামান্য বৃষ্টিতেই পানি নিষ্কাশনের কোনো ব্যবস্থা থাকে না। প্রতিদিন পার্কিং ও অন্যান্য খাতে বিপুল পরিমাণ রাজস্ব আদায় করা হলেও যাত্রীদের জন্য ন্যূনতম নাগরিক সুবিধাও নিশ্চিত করা হয়নি।
পরিবহন শ্রমিকরা জানান, প্রতিদিন তাদের কাছ থেকে বিভিন্ন ফি নেওয়া হলেও বসার উপযুক্ত পরিবেশ, গাড়ি পার্কিং সুবিধা কিংবা জলাবদ্ধতা নিরসনে কার্যকর কোনো উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না। বৃষ্টি হলেই কাদায় গাড়ির চাকা আটকে যায় এবং যাত্রীসেবা ব্যাহত হয়।
কর্তৃপক্ষের দীর্ঘদিনের উদাসীনতায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারাও। তারা বলছেন, জেলার প্রধান বাস টার্মিনাল হওয়া সত্ত্বেও বছরের পর বছর অবহেলা ও অযত্নে এটি এখন প্রায় অচল অবস্থায় পৌঁছেছে।
এদিকে ভোগান্তি কিছুটা কমাতে পরিবহন মালিক ও শ্রমিকরা নিজেদের উদ্যোগে টার্মিনালের বড় বড় গর্তে পাথর ও খোয়া ফেলে সাময়িকভাবে চলাচলের উপযোগী করার চেষ্টা করছেন। তবে টানা বৃষ্টি শুরু হলে এই ব্যবস্থা কোনো কাজে আসবে না বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তারা।
যাত্রী, শ্রমিক ও স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত কার্যকর ড্রেনেজ ব্যবস্থা চালু করে টার্মিনাল সংস্কার এবং স্থায়ীভাবে জলাবদ্ধতা নিরসনে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হোক, যাতে জেলার একমাত্র কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালটি আবারও স্বাভাবিক কার্যক্রমে ফিরতে পারে।
প্রকাশক ও সম্পাদক
মোঃ শাহিন হোসেন
www.dainikabhaynagar.com