
ময়মনসিংহের তারাকান্দা উপজেলার গালাগাঁও ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের গাবরগাতী গ্রামে জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে মোছা. স্বপ্না আক্তার (২৫) নামে এক গৃহবধূকে মারধর ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় আলামিনসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে তারাকান্দা থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন ভুক্তভোগী। প্রাণনাশের আশঙ্কায় তিন অবুঝ সন্তানকে নিয়ে বর্তমানে বাবার বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছেন তিনি।
ভুক্তভোগী পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত ৭ জুন সকাল প্রায় ১১টার দিকে জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে স্বপ্না আক্তারের স্বামীর সঙ্গে প্রতিপক্ষের কথা-কাটাকাটি হয়। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে স্বামীকে রক্ষা করতে এগিয়ে যান স্বপ্না আক্তার। এ সময় আলামিন, রিনা আক্তার, সুমাইয়া আক্তার, সাহেদ, খোদেজা আক্তার ও ইসলাম মিয়াসহ কয়েকজন তার ওপর হামলা চালায় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
অভিযোগে বলা হয়, হামলাকারীরা তাকে এলোপাতাড়ি কিল-ঘুষি ও লাথি মারার পাশাপাশি গলা চেপে ধরে শ্বাসরোধ করে হত্যার চেষ্টা করে। এ সময় তাকে রক্ষা করতে গিয়ে সঙ্গে থাকা এক শিশুসন্তানও আহত হয়। পরে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এসে তাদের উদ্ধার করেন।
ঘটনার খবর পেয়ে স্বপ্নার বাবা তাইজ উদ্দিন ও বড় ভাই ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে অজ্ঞান অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। পরে তাকে উদ্ধার করে প্রথমে তারাকান্দা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করেন।
পরিবারের দাবি, ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্তদের পক্ষ থেকে বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছিল। সর্বশেষ গত ১২ জুন আলামিন ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার এবং তার সন্তানদের হত্যার হুমকি দেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এতে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগতে শুরু করেন স্বপ্না আক্তার। একই দিন সন্ধ্যায় তিন সন্তানকে নিয়ে তিনি বাবার বাড়িতে আশ্রয় নেন এবং পরদিন ১৩ জুন তারাকান্দা থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
ভুক্তভোগী স্বপ্না আক্তার বলেন, “আমি ও আমার সন্তানরা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। প্রতিপক্ষের লোকজন বিভিন্ন সময় ভয়ভীতি দেখাচ্ছে। আমি ও আমার সন্তানদের নিরাপত্তা এবং ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই।”
এ বিষয়ে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা তারাকান্দা থানার এসআই আব্দুল হাকিম বলেন, “অভিযোগটি গ্রহণ করা হয়েছে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। তথ্য-উপাত্ত ও কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করা হবে। দোষী ব্যক্তি যতই প্রভাবশালী হোক না কেন, তাকে আইনের আওতায় এনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
এদিকে স্থানীয় সচেতন মহল ঘটনাটির নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দোষীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে। তাদের মতে, নারী ও শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এ ধরনের ঘটনায় দ্রুত ও কার্যকর আইনি পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি না ঘটে।
প্রকাশক ও সম্পাদক
মোঃ শাহিন হোসেন
www.dainikabhaynagar.com