
ভোলায় ‘জিনের বাদশা’ পরিচয়ে এক সৌদি প্রবাসীর স্ত্রী, দুই অপ্রাপ্তবয়স্ক কন্যা সন্তান এবং বিপুল পরিমাণ অর্থ-সম্পদ নিয়ে গা-ঢাকা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে নকিব কসাই নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় সাইবার নির্যাতন, প্রতারণা ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ এনে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ভুক্তভোগী সৌদি প্রবাসী নুরে আলম।
মঙ্গলবার (৯ জুন) রাতে ভোলা শহরের একটি পত্রিকা কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে নুরে আলমের পক্ষে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন তার নিকট আত্মীয় হাসান ভূঁইয়া।
লিখিত বক্তব্যে নুরে আলম জানান, তিনি ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলার টবগী ইউনিয়নের মুলাই পত্তন এলাকার বাসিন্দা এবং দীর্ঘদিন ধরে সৌদি আরবে কর্মরত। তার অভিযোগ, একই উপজেলার কাচিয়া ইউনিয়নের দালাল বাজার এলাকার নকিব কসাই নিজেকে ‘জিনের বাদশা’ ও অলৌকিক ক্ষমতার অধিকারী হিসেবে পরিচয় দিয়ে তার পরিবারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তোলেন এবং একপর্যায়ে তার স্ত্রীর আস্থা অর্জন করেন।
প্রবাসীর দাবি, এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে অভিযুক্ত ব্যক্তি প্রতারণার মাধ্যমে জমি বিক্রির প্রায় ৩৩ লাখ টাকা, প্রায় ৭ ভরি স্বর্ণালংকার এবং গত তিন বছরের উপার্জিত প্রায় ২২ থেকে ২৩ লাখ টাকা আত্মসাৎ করেন। পাশাপাশি তার স্ত্রী সাহিদা (৩৮) ও দুই অপ্রাপ্তবয়স্ক কন্যা সন্তানকে প্রলোভন দেখিয়ে নিয়ে গিয়ে গা-ঢাকা দেন।
নুরে আলম আরও অভিযোগ করেন, আইনগতভাবে তাদের বিবাহবিচ্ছেদ না হলেও নকিব কসাই তার স্ত্রীকে বিয়ে করেছেন বলে বিভিন্ন মহলে প্রচার করা হচ্ছে। এছাড়া তার এক অপ্রাপ্তবয়স্ক কন্যাকে ব্যবহার করে আপত্তিকর ছবি ও ভিডিও ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে, যা নারী ও শিশু নির্যাতন এবং সাইবার অপরাধের শামিল বলে তিনি দাবি করেন।
তিনি বলেন, স্ত্রী-সন্তানদের ফেরত চাইলে অভিযুক্ত নকিব কসাই, সিরাজ ওরফে ‘জিনের বাদশা’ এবং তাদের সহযোগীরা তাকে প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছেন। একই সঙ্গে মিথ্যা ধর্ষণ ও নারী নির্যাতনের মামলায় ফাঁসানোরও হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে নুরে আলম আরও দাবি করেন, অভিযুক্ত নকিব কসাইয়ের বিরুদ্ধে ভোলা জেলার বিভিন্ন থানায় প্রতারণা, অপহরণ, চুরি, মারামারি ও ডাকাতিসহ একাধিক মামলা বিচারাধীন রয়েছে।
একজন প্রবাসী হিসেবে তিনি প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং মানবাধিকার সংস্থার কাছে ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত, অভিযুক্তদের দ্রুত গ্রেপ্তার, স্ত্রী ও সন্তানদের উদ্ধার, আত্মসাৎ হওয়া অর্থ-সম্পদ পুনরুদ্ধার এবং তার পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জোর দাবি জানান।
তবে উল্লিখিত অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত নকিব কসাইয়ের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাই ও তদন্তের পরই প্রকৃত ঘটনা সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া সম্ভব হবে।
প্রকাশক ও সম্পাদক
মোঃ শাহিন হোসেন
www.dainikabhaynagar.com