প্রিন্ট এর তারিখঃ জুন ২৩, ২০২৬, ১:১২ পি.এম || প্রকাশের তারিখঃ জুন ২৩, ২০২৬, ১০:২০ এ.এম
কুড়িগ্রামে প্রবাসীর স্ত্রীকে ধর্ষণচেষ্টা: দেশীয় অস্ত্রসহ ইউপি সদস্য গণধোলাইয়ের পর পুলিশে সোপর্দ

কুড়িগ্রামের রৌমারীতে গভীর রাতে ঘরে ঢুকে এক প্রবাসীর স্ত্রীকে ধর্ষণচেষ্টার সময় জাকির হোসেন নামের এক স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) সদস্য ও যুবলীগ নেতাকে দেশীয় অস্ত্রসহ হাতেনাতে আটক করেছে এলাকাবাসী। উত্ত্যক্তের শিকার নারীর চিৎকারে ছুটে এসে গ্রামবাসী অভিযুক্তকে গণধোলাই দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করে। গত রবিবার (২১ জুন) রাত আনুমানিক ৩টার দিকে ভুক্তভোগী নারীর নিজ বাড়িতে এই চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটে। আটককৃত জাকির হোসেন এলাকায় যুবলীগ নেতা এবং স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য হিসেবে পরিচিত। তার এই অনৈতিক ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও উত্তেজনা বিরাজ করছে।
যেভাবে ঘটনার সূত্রপাত পুলিশ ও স্থানীয় একাধিক নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে, ভুক্তভোগী নারীর স্বামী দীর্ঘদিন ধরে জীবিকার তাগিদে মালদ্বীপে কর্মরত রয়েছেন। বাড়িতে ওই নারী একা থাকার সুযোগে যুবলীগ নেতা জাকির হোসেন দীর্ঘদিন ধরে তাকে কুপ্রস্তাব দিয়ে আসছিল এবং প্রায় রাতেই বাড়ির আশপাশে গিয়ে উত্যক্ত করত। সম্ভ্রম হারানো ও সামাজিক মর্যাদার ভয়ে ভুক্তভোগী নারী এতদিন বিষয়টি নীরবে সহ্য করলেও রবিবার রাতে পরিস্থিতি ভিন্ন রূপ নেয়। প্রত্যক্ষদর্শীদের বিবরণ: "রবিবার দিবাগত রাত ৩টার দিকে জাকির হোসেন পূর্বপরিকল্পিতভাবে ওই প্রবাসীর বাড়ির বেড়া কেটে ভেতরে প্রবেশ করে। এরপর সে জোরপূর্বক ঘরে ঢুকে ভুক্তভোগী নারীকে ধর্ষণের চেষ্টা চালায়। ওই নারী আত্মরক্ষার্থে চিৎকার শুরু করলে আশেপাশের বাড়ির লোকজন লাঠিসোঁটা নিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন।" গ্রামবাসী অত্যন্ত সাহসিকতার সাথে ঘর থেকে দেশীয় অস্ত্রসহ জাকির হোসেনকে হাতেনাতে ধরে ফেলেন। পরে বিক্ষুব্ধ জনতা তাকে রশি দিয়ে হাত-পা বেঁধে গণধোলাই দেয়। পুলিশের উদ্ধার অভিযান ও অপরাধের খতিয়ান
খবর পেয়ে রৌমারী থানা পুলিশের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে উত্তেজিত জনতার হাত থেকে অভিযুক্ত জাকিরকে উদ্ধার করে। গণধোলাইয়ে মারাত্মক আহত হওয়ায় পুলিশ প্রথমে তাকে রৌমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয় এবং পরে থানায় নিয়ে আসে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, আটক জাকির হোসেন একজন চিহ্নিত ও পেশাদার অপরাধী। ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে সে দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় নানা অপকর্ম চালিয়ে আসছিল। তার বিরুদ্ধে রৌমারী থানাসহ বিভিন্ন আদালতে খুন, মাদক ব্যবসা, চাঁদাবাজি ও ধর্ষণসহ একাধিক মামলা রয়েছে। এমনকি বর্তমানেও তার বিরুদ্ধে আদালতের একটি সাজাপ্রাপ্ত বা নিয়মিত মামলার গ্রেফতারি পরোয়ানা (ওয়ারেন্ট) জারি রয়েছে বলে স্থানীয়রা জানান। এমন একজন ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি প্রকাশ্য ঘুরে বেড়ানো এবং জনপ্রতিনিধির দায়িত্বে থাকা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সাধারণ মানুষ। আইনগত পদক্ষেপ ও প্রশাসনের বক্তব্য এ বিষয়ে রৌমারী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কাওছার আলী ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, ভুক্তভোগী নারী নিজে বাদী হয়ে থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। ঘটনার সুনির্দিষ্ট তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে মামলার আইনি প্রক্রিয়া ও প্রস্তুতি চলছে। তিনি আরও জোর দিয়ে বলেন: "অপরাধী যেই হোক না কেন, তার রাজনৈতিক বা সামাজিক পরিচয় বিবেচনা করা হবে না। আইন অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে কঠোর ও দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।" এলাকাবাসীর দাবি, চিহ্নিত এই অপরাধী যেন কোনোভাবেই রাজনৈতিক বা প্রশাসনিক প্রভাব খাটিয়ে পার পেয়ে না যায়। তারা এই ঘটনার দ্রুত সুষ্ঠু তদন্ত এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির জোর দাবি জানিয়েছেন।
প্রকাশক ও সম্পাদক
মোঃ শাহিন হোসেন
www.dainikabhaynagar.com