মানিকগঞ্জের শিবালয় উপজেলার আমডালা এলাকায় চলমান খাল খনন কর্মসূচি পরিদর্শন করেছেন সরকারের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রী এবং বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী। বুধবার (২৪ জুন) এ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে স্থানীয় জনসাধারণ, প্রশাসনের কর্মকর্তা এবং রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের ব্যাপক উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়।
পরিদর্শনকালে মন্ত্রীদ্বয় খাল খনন প্রকল্পের অগ্রগতি সরেজমিনে দেখেন এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাজের গুণগত মান বজায় রেখে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রকল্প সম্পন্ন করার নির্দেশনা দেন। পরে তারা খালের পাড়ে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতেও অংশ নেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রী বলেন, দেশের কৃষি, পরিবেশ ও জলসম্পদ ব্যবস্থাপনার উন্নয়নে খাল খনন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি জানান, সরকারের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অংশ হিসেবে দেশের বিভিন্ন নদী-খাল পুনঃখননের মাধ্যমে সারা বছর পানির প্রবাহ নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সংরক্ষিত পানি কৃষি ও সেচকাজে ব্যবহারের পাশাপাশি মৎস্য উৎপাদন বৃদ্ধিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
তিনি আরও বলেন, সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী দেশব্যাপী বিপুল সংখ্যক গাছের চারা রোপণ করা হবে। খালের পাড়ে বৃক্ষরোপণের মাধ্যমে মাটিক্ষয় রোধ, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং জলবায়ু সহনশীলতা বৃদ্ধিতে সহায়তা পাওয়া যাবে।
বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী বলেন, খাল পুনঃখনন শুধু কৃষি উৎপাদন বাড়াবে না, বরং স্থানীয় পরিবেশ ও পর্যটন সম্ভাবনাকেও সমৃদ্ধ করবে। তিনি প্রকল্প বাস্তবায়নে স্থানীয় জনগণের সহযোগিতা কামনা করেন।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মানিকগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য এস এ জিন্নাহ কবির, মানিকগঞ্জ জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান জামিলুর রশিদ জামিল, জেলা প্রশাসক নাজমুন আরা সুলতানা, প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।
দুই মন্ত্রীর আগমনকে ঘিরে আমডালা এলাকায় উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়। স্থানীয় নেতৃবৃন্দ আশা প্রকাশ করেন, খাল খনন প্রকল্প বাস্তবায়নের ফলে দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা দূর হবে, কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে এবং এলাকার সামগ্রিক অর্থনৈতিক উন্নয়নে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হবে।
প্রকাশক ও সম্পাদক
মোঃ শাহিন হোসেন
www.dainikabhaynagar.com