দীর্ঘ প্রায় ১১ বছরের অপেক্ষা, অনিয়ম ও নানা জটিলতার পর অবশেষে শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলার কীর্তিনাশা নদীর ওপর নির্মাণাধীন ভাষাসৈনিক ডা. গোলাম মাওলা সেতুর নির্মাণকাজ আবারও শুরু হয়েছে। গত ১২ জুন থেকে নতুন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ফরিদপুরের জান্নাত কনস্ট্রাকশন লিমিটেড ও রেজাউল করিম জেভি আনুষ্ঠানিকভাবে অবশিষ্ট কাজ শুরু করেছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ হলে নড়িয়া, জাজিরা ও ভেদরগঞ্জ উপজেলার লাখো মানুষের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগের অবসান হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) সূত্রে জানা গেছে, নতুন ঠিকাদারকে এক বছরের মধ্যে সেতুর অবশিষ্ট নির্মাণকাজ সম্পন্ন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। যদিও কার্যাদেশ অনুযায়ী ৬ মে কাজ শুরু হওয়ার কথা ছিল, বিভিন্ন প্রস্তুতিগত কারণে প্রায় এক মাস বিলম্বে মাঠপর্যায়ে কাজ শুরু হয়।
ঢাকার সঙ্গে নড়িয়া ও ভেদরগঞ্জের সরাসরি সড়ক যোগাযোগ নিশ্চিত করতে ১৯৯৭-৯৮ অর্থবছরে কীর্তিনাশা নদীর ওপর প্রথম সেতুটি নির্মাণ করা হয়। দীর্ঘদিন ব্যবহারের পর নদীর প্রবল স্রোত ও কাঠামোগত দুর্বলতার কারণে ২০১৫ সালে সেতুটি ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করে যান চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়।
এরপর ২০১৭ সালে প্রায় ১৪ কোটি টাকা ব্যয়ে নতুন সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। পরে প্রকল্প ব্যয় বৃদ্ধি পেয়ে প্রায় ২৯ কোটিতে পৌঁছায়। প্রথম ঠিকাদার নাভানা কনস্ট্রাকশন আংশিক কাজ শেষ করে প্রকল্প থেকে সরে যায়। পরে নতুন ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান দায়িত্ব নিলেও ২০২৪ সালে রাজনৈতিক অস্থিরতার পর কাজ বন্ধ হয়ে যায়। প্রায় দুই বছর বন্ধ থাকার পর চলতি মাসে আবারও নির্মাণকাজ শুরু হয়েছে।
২০২৩ সালের ডিসেম্বরে পুরোনো সেতু ভেঙে ফেলার পর নদী পারাপারের জন্য স্থানীয়দের ইঞ্জিনচালিত নৌকা ও ট্রলারের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। বিকল্প সড়ক ব্যবহার করতে গিয়ে প্রায় ১৬ কিলোমিটার অতিরিক্ত পথ পাড়ি দিতে হচ্ছে। এতে ব্যবসায়ী, কৃষক, শিক্ষার্থী ও রোগীদের প্রতিদিন বাড়তি সময় ও অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে।
নড়িয়া বাজারের ব্যবসায়ী মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, “একটি সেতুর অভাবে বছরের পর বছর ধরে অতিরিক্ত পরিবহন ব্যয় গুনতে হচ্ছে। এবার যদি নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ হয়, তাহলে ব্যবসা-বাণিজ্যে নতুন গতি আসবে।”
স্থানীয় শিক্ষক মৃধা রেজাউল করিম বলেন, “এই সেতু শুধু যোগাযোগ নয়, পুরো এলাকার অর্থনীতি ও শিক্ষা ব্যবস্থার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দ্রুত কাজ শেষ হলে মানুষের দীর্ঘদিনের ভোগান্তি দূর হবে।”
ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই সেতুর নির্মাণকাজ শেষ করার লক্ষ্য নিয়ে কাজ চলছে।
ভাষাসৈনিক ডা. গোলাম মাওলার নামে নামকরণ করা এই সেতুটি নড়িয়া অঞ্চলের মানুষের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এলাকাবাসীর প্রত্যাশা, আর কোনো জটিলতা সৃষ্টি না হলে আগামী এক বছরের মধ্যেই সেতুটি যান চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হবে এবং দীর্ঘদিনের দুর্ভোগের অবসান ঘটবে।
প্রকাশক ও সম্পাদক
মোঃ শাহিন হোসেন
www.dainikabhaynagar.com