
ভোলার চরফ্যাশন উপজেলায় এক কিশোরীকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে থানায় যাওয়ার পর ভুক্তভোগী কিশোরী ও তার মা-বাবার ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে। হামলায় আহত তিনজনকে উদ্ধার করে চরফ্যাশন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
ভুক্তভোগী কিশোরীর মায়ের অভিযোগ, গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় তাদের একটি পালিত হাঁস বাড়িতে না ফেরায় তিনি মেয়েকে সঙ্গে নিয়ে প্রতিবেশী জাকির হোসেনের বাড়িতে খোঁজ নিতে যান। সেখানে হাঁস না পেয়ে মেয়েকে বাড়িতে ফিরে যেতে বলে তিনি অন্যত্র খোঁজ করতে যান। এ সময় বাড়ি ফেরার পথে জাকির হোসেন তার মেয়ের গতিরোধ করে ধর্ষণের চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।
পরবর্তীতে মেয়ের কাছ থেকে ঘটনাটি জানতে পেরে পরিবারের সদস্যরা স্থানীয়দের বিষয়টি অবহিত করেন এবং সেদিন রাতেই চরফ্যাশন থানায় গিয়ে মৌখিক অভিযোগ করেন। অভিযোগের পর থানা পুলিশ স্থানীয় গ্রাম পুলিশ সদস্য আলমগীর হোসেনের মাধ্যমে অভিযুক্ত জাকির হোসেনকে থানায় নিয়ে আসে।
ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, অভিযুক্তের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক আইনগত ব্যবস্থা না নিয়ে স্থানীয় মাতবর রিয়াজ ফরাজী ও গ্রাম পুলিশ সদস্য আলমগীর হোসেন সমঝোতার উদ্যোগ নেন। পরে চিকিৎসার কথা বলে রিয়াজ ফরাজী নিজের জিম্মায় অভিযুক্তকে থানার কাছ থেকে নিয়ে যান।
কিশোরীর মায়ের অভিযোগ, থানায় অভিযোগ করায় ক্ষুব্ধ হয়ে পরদিন শুক্রবার দুপুরে জাকির হোসেন কয়েকজন সহযোগীকে নিয়ে তার স্বামীর ওপর হামলা চালান। স্বামীকে রক্ষা করতে গেলে তাকেও এবং তার কিশোরী মেয়েকেও মারধর করা হয়। পরে স্থানীয়রা আহত তিনজনকে উদ্ধার করে চরফ্যাশন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত জাকির হোসেনের বক্তব্য জানার জন্য একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
গ্রাম পুলিশ সদস্য আলমগীর হোসেন জানান, অভিযুক্তকে থানায় নিয়ে যাওয়ার পর স্থানীয় মাতবর রিয়াজ ফরাজী চিকিৎসার প্রয়োজনের কথা বলে তাকে নিজের জিম্মায় নেন।
অন্যদিকে, রিয়াজ ফরাজীর সঙ্গে যোগাযোগের জন্য তার মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করা হলেও সেটি বন্ধ পাওয়া যায়।
এ ঘটনায় থানায় লিখিত মামলা দায়ের হয়েছে কি না এবং অভিযোগের বিষয়ে পুলিশ কী আইনগত ব্যবস্থা নিয়েছে, তা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।
প্রকাশক ও সম্পাদক
মোঃ শাহিন হোসেন
www.dainikabhaynagar.com