১৮ মাসে নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও ছয় বছর পেরিয়ে গেলেও শেষ হয়নি লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালের ২৫০ শয্যার নতুন ভবনের কাজ। দীর্ঘসূত্রতা ও নির্মাণকাজের ধীরগতির কারণে পুরোনো ১০০ শয্যার ভবনেই ধারণক্ষমতার কয়েক গুণ বেশি রোগীকে চিকিৎসাসেবা দিতে হচ্ছে। এতে শয্যা সংকট, স্থানাভাব ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন রোগীরা।
হাসপাতাল ও গণপূর্ত বিভাগ সূত্রে জানা যায়, ২০১৭ সালের ১৪ মার্চ লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালকে ১০০ থেকে ২৫০ শয্যায় উন্নীত করার ঘোষণা দেওয়া হয়। এর অংশ হিসেবে প্রায় ৩৫ কোটি ৩৬ লাখ টাকা ব্যয়ে ২০১৮ সালের জুনে নতুন ভবনের নির্মাণকাজ শুরু করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘রুপালি জিএম অ্যান্ড সন্স কনসোর্টিয়াম’। চুক্তি অনুযায়ী ২০২০ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও একাধিকবার সময় ও প্রকল্পের ব্যয় বাড়িয়েও ভবনটি এখনো চালুর উপযোগী হয়নি।
সরেজমিনে দেখা গেছে, ১০০ শয্যার হাসপাতালটিতে প্রতিদিন গড়ে ৪০০ থেকে ৫০০ রোগী ভর্তি থাকছেন। অতিরিক্ত রোগীর কারণে ওয়ার্ডের বেড ছাড়াও মেঝে, করিডোর, বারান্দা এবং শৌচাগারের সামনের স্থানেও রোগীদের চিকিৎসা নিতে হচ্ছে।
চিকিৎসাধীন হাফসা বেগম বলেন, “বেড না পেয়ে কয়েকদিন ধরে মেঝেতে চিকিৎসা নিচ্ছি। অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে সুস্থ হওয়ার বদলে আরও কষ্ট বাড়ছে।”
ডায়রিয়ায় আক্রান্ত শিশুর স্বজন মিনতি রানি দাস বলেন, “একটি বেডে একাধিক শিশুকে রাখতে হচ্ছে। এতে সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ছে।”
হাসপাতালের জুনিয়র কনসালট্যান্ট ডা. ইকবাল মাহমুদ বলেন, অতিরিক্ত রোগীর চাপের কারণে কাঙ্ক্ষিত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়েছে। নতুন ভবন দ্রুত চালু না হলে পরিস্থিতির উন্নতি সম্ভব নয়।
আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. অরূপ পাল জানান, প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৩০০ নতুন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছেন। সীমিত শয্যা ও জনবল নিয়ে চিকিৎসক ও নার্সদের বাড়তি চাপ সামলাতে হচ্ছে। নতুন ভবনে পূর্ণাঙ্গ কার্যক্রম চালু হলে রোগীদের ভোগান্তি উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে।
এ বিষয়ে ঠিকাদার ইসমাইল হোসেন বলেন, করোনা মহামারি এবং আন্তর্জাতিক বাজারে নির্মাণসামগ্রীর মূল্যবৃদ্ধির কারণে কাজ বিলম্বিত হয়েছে। তবে দ্রুত কাজ শেষ করে ভবনটি কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তরের চেষ্টা চলছে।
লক্ষ্মীপুর গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী সফিকুর রহমান জানান, আগের টেন্ডারের মেয়াদ শেষ হওয়ায় কাজটি আপাতত স্থগিত রয়েছে। নতুন টেন্ডারের মাধ্যমে ঠিকাদার নিয়োগ দিয়ে আগামী এক বছরের মধ্যে নির্মাণকাজ শেষ করার পরিকল্পনা রয়েছে।
এদিকে স্থানীয়দের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা এই প্রকল্প দ্রুত সম্পন্ন করে ২৫০ শয্যার হাসপাতালটি চালু করা হলে জেলার মানুষ আধুনিক ও মানসম্মত চিকিৎসাসেবা পাবেন এবং বর্তমান ভোগান্তিরও অবসান ঘটবে।
প্রকাশক ও সম্পাদক
মোঃ শাহিন হোসেন
www.dainikabhaynagar.com