
মিসরের বিপক্ষে বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর ম্যাচে অবিশ্বাস্য নাটকে জড়িয়ে পড়ল আর্জেন্টিনা। ফেবারিট হিসেবে মাঠে নেমেও শুরুতেই ধাক্কা খায় বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা। একসময় ২-০ গোলে পিছিয়ে পড়া লিওনেল স্কালোনির দল শেষ দিকে ঘুরে দাঁড়ায় লিওনেল মেসি, ক্রিস্টিয়ান রোমেরো ও এনজো ফার্নান্দেজের গোলে।
আটলান্টায় ম্যাচের শুরু থেকেই মিসর ছিল সংগঠিত ও সাহসী। আর্জেন্টিনা বলের দখল রাখলেও মিসর সুযোগ পেলেই দ্রুত আক্রমণে উঠেছে। ১৫ মিনিটে কর্নার থেকে ইয়াসের ইব্রাহিমের হেডে এগিয়ে যায় সালাহদের দল। গোলের পর আরও আত্মবিশ্বাসী হয়ে ওঠে মিসর।
চার মিনিট পরই সমতায় ফেরার বড় সুযোগ পায় আর্জেন্টিনা। পেনাল্টি স্পটে দাঁড়ান মেসি। কিন্তু তাঁর শট ঠেকিয়ে দেন মিসর গোলরক্ষক মোস্তফা শৌবির। বিশ্বকাপে এটি মেসির চতুর্থ পেনাল্টি মিস, আর এবারের আসরে দ্বিতীয়। সেই মিসের পর আর্জেন্টিনার চাপ আরও বাড়ে।
প্রথমার্ধে আর্জেন্টিনা ছন্দ খুঁজে পায়নি। মেসিকে ঘিরে মিসরের রক্ষণ ছিল সতর্ক, আলভারেজও খুব বেশি জায়গা পাননি। অন্যদিকে মোহামেদ সালাহ সুযোগ পেলেই কাউন্টার আক্রমণে ভয় তৈরি করছিলেন।
দ্বিতীয়ার্ধে ম্যাচ আরও কঠিন হয়ে যায় আর্জেন্টিনার জন্য। ৬৭ মিনিটে দ্রুত পাল্টা আক্রমণ থেকে মোস্তফা জিকোর গোলে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় মিসর। তখন মনে হচ্ছিল, বিশ্বকাপের আরেকটি বড় অঘটনের সামনে দাঁড়িয়ে বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা।
কিন্তু শেষ দিকে জেগে ওঠে আর্জেন্টিনা। ৭৯ মিনিটে মেসির ক্রস থেকে হেডে গোল করে ব্যবধান কমান ক্রিস্টিয়ান রোমেরো। সেই গোলই ম্যাচে নতুন প্রাণ ফেরায়। এরপর ৮৩ মিনিটে আলভারেজের সহায়তায় দারুণ ভলিতে সমতা ফেরান মেসি। পেনাল্টি মিসের হতাশা ভুলিয়ে দলকে আবার ম্যাচে ফেরান আর্জেন্টিনা অধিনায়ক।
শেষ মুহূর্তে আর্জেন্টিনা আরও চাপ বাড়ায়। যোগ করা সময়ে স্কোর দাঁড়ায় ৩-২, মিসরের প্রতিরোধ ভেঙে যাওয়ার শঙ্কা তৈরি হয়। তবে এই ম্যাচ আবারও দেখিয়ে দিল, এবারের বিশ্বকাপে কোনো বড় দলই নিরাপদ নয়
প্রকাশক ও সম্পাদক
মোঃ শাহিন হোসেন
www.dainikabhaynagar.com