প্রিন্ট এর তারিখঃ জুলাই ১৪, ২০২৬, ৫:১০ পি.এম || প্রকাশের তারিখঃ জুলাই ৯, ২০২৬, ৫:০১ পি.এম
সুন্দরবনে কোস্ট গার্ডের কাছে আত্মসমর্পণ, বড় জাহাঙ্গীর বাহিনীর ৩ সদস্য; জিম্মি জেলে উদ্ধার
সুন্দরবনে দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় কুখ্যাত ‘বড় জাহাঙ্গীর বাহিনীর’ তিন সদস্য বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের কাছে অস্ত্র ও গোলাবারুদসহ আত্মসমর্পণ করেছেন। এ সময় তাদের হেফাজতে থাকা এক জিম্মি জেলেকেও জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) সকালে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত বুধবার (৮ জুলাই) বিকেলে বাগেরহাটের শরণখোলা থানার সুন্দরবনের তাম্বুলবুনিয়া ফরেস্ট অফিসসংলগ্ন কলামুলি খাল এলাকায় পরিচালিত ‘অপারেশন রিস্টোর পিস ইন সুন্দরবন’ এবং ‘অপারেশন ম্যানগ্রোভ শিল্ড’-এর আওতায় বাহিনীর তিন সক্রিয় সদস্য আত্মসমর্পণ করেন।
আত্মসমর্পণকারীরা হলেন বাগেরহাটের আল আমিন হোসেন (৪০), সাতক্ষীরার তৈবুর রহমান (২৪) এবং খুলনার কয়রা উপজেলার মনিরুজ্জামান মামুন (২০)।
কোস্ট গার্ড জানায়, আত্মসমর্পণের সময় তারা দুটি দেশীয় একনলা বন্দুক, একটি পাইপগান, ৪০ রাউন্ড তাজা কার্তুজ এবং একটি ওয়াকিটকি জমা দেন। একই সঙ্গে তাদের হেফাজত থেকে জিম্মি থাকা এক জেলেকে জীবিত উদ্ধার করা হয়।
প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে আরও উল্লেখ করা হয়, আত্মসমর্পণকারী তিনজন দীর্ঘদিন ধরে সুন্দরবনে ডাকাতি, জেলে ও বাওয়ালিদের জিম্মি করে মুক্তিপণ আদায়ের সঙ্গে জড়িত ছিলেন বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।
বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের তথ্যমতে, চলতি বছরের ১২ ফেব্রুয়ারি থেকে সুন্দরবনকেন্দ্রিক বিশেষ অভিযান শুরু হওয়ার পর এ পর্যন্ত ৪৯টি আগ্নেয়াস্ত্র, বিপুল পরিমাণ গোলাবারুদ উদ্ধার করা হয়েছে। একই সময়ে ৪২ জন বনদস্যুকে আটক এবং ৪১ জন জিম্মিকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। এর আগে ‘ছোট সুমন বাহিনীর’ সাত সদস্যও অস্ত্রসহ আত্মসমর্পণ করেন।
কোস্ট গার্ড জানিয়েছে, আত্মসমর্পণকারী ব্যক্তিদের পুনর্বাসনের উদ্যোগ, উদ্ধার হওয়া জেলেকে পরিবারের কাছে হস্তান্তর এবং সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।