কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলায় বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের এক নেতার বিরুদ্ধে যৌতুকের দাবিতে স্ত্রীকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন এবং বিবাহবিচ্ছেদের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের বিষয়ে এখন পর্যন্ত থানায় লিখিত মামলা হয়নি বলে জানিয়েছে পুলিশ।
অভিযুক্ত মো. আইয়ুব আলী আনসারী বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের রৌমারী উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক এবং দাঁতভাঙা ইউনিয়নের ডিগ্রীর চর গ্রামের মো. আব্দুস সবুর মুন্সীর ছেলে।
ভুক্তভোগী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় চার বছর আগে ইসলামী শরিয়াহ অনুযায়ী তাদের বিয়ে হয়। দম্পতির আড়াই বছর বয়সী আফিয়া সিদ্দিকা নামে একটি কন্যাসন্তান রয়েছে। বিয়ের পর প্রথমদিকে সংসার স্বাভাবিক থাকলেও পরে যৌতুকসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে দাম্পত্য কলহ শুরু হয় বলে অভিযোগ।
ভুক্তভোগীর দাবি, বিয়ের এক বছর পর আইয়ুব আলী আনসারী গাছবাড়ী বাজারে একটি কওমি মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠার সময় স্ত্রীর পরিবারের কাছে দুই লাখ টাকা দাবি করেন। পরে মেয়ের সুখের কথা বিবেচনা করে তার বাবা ৫০ হাজার টাকা দেন। কিন্তু এরপরও বিভিন্ন সময়ে আরও অর্থ আনার জন্য চাপ দেওয়া হয়। টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে তাকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হতে হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
গৃহবধূর ভাষ্য, সর্বশেষ গত সোমবার অভিযুক্ত তাকে তিন লাখ টাকা যৌতুক এনে দিতে বলেন। অন্যথায় সংসার করবেন না এবং বিবাহবিচ্ছেদের উদ্যোগ নেবেন বলে হুমকি দেন। এতে আপত্তি জানালে তাকে মারধর, গালিগালাজ এবং ভয়ভীতি দেখানো হয় বলে তিনি অভিযোগ করেন।
বর্তমানে তিনি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন এবং ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করেছেন।
অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে মো. আইয়ুব আলী আনসারীর সঙ্গে একাধিকবার মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার নম্বর বন্ধ পাওয়া যায়। ফলে তার বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি।
রৌমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাওছার আলী বলেন, "এ ঘটনায় এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"
উল্লেখ্য, এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর অভিযোগের সত্যতা এখনো স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। অভিযুক্তের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত তিনি আইনগতভাবে নির্দোষ বলে বিবেচিত হবেন।
প্রকাশক ও সম্পাদক
মোঃ শাহিন হোসেন
www.dainikabhaynagar.com