ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ পৌরসভায় ভবন নির্মাণ ও নকশা অনুমোদনের নামে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্যের অভিযোগ উঠেছে। পৌরসভার কতিপয় অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীর যোগসাজশে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা আদায় করা হলেও তার বড় অংশ সরকারি কোষাগারে জমা হচ্ছে না বলে অভিযোগ রয়েছে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, পৌরসভায় এ সংক্রান্ত কাজের জন্য নির্ধারিত জনবল থাকলেও নকশা অনুমোদনের নামে একটি সিন্ডিকেট গড়ে উঠেছে। তাদের প্রভাবেই নিয়মবহির্ভূতভাবে ভবন নির্মাণ চলছে।
সরেজমিনে পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের সিআই পাড়ায় দেখা যায়, জনি আহম্মেদ নামে এক ব্যক্তি কোনো বৈধ নকশা ছাড়াই তিনতলা ভবন নির্মাণ করে সেখানে বসবাস শুরু করেছেন। অভিযোগ রয়েছে, নির্মাণকাজকে বৈধতা দেওয়ার নামে পৌরসভার কর শাখার কর্মচারী হাবিবুর রহমান তার কাছ থেকে ৪১ হাজার টাকা নিয়েছেন। তবে ওই অর্থ পৌরসভার রাজস্ব খাতে জমা হয়নি বলে অভিযোগ।
এ বিষয়ে হাবিবুর রহমান বলেন, তিনি অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছেন এবং কালীগঞ্জ পৌরসভায় অধিকাংশ ভবনই নিয়ম মেনে নির্মাণ হয় না। ভবন নির্মাণ শেষে অফিসিয়ালি অনুমোদনের ব্যবস্থা করা হয়। ব্যাংকে টাকা জমা না দেওয়ার বিষয়টিও তিনি স্বীকার করেন।
কালীগঞ্জ পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী কবির হাচান টাকা নেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, জনি আহম্মেদ প্ল্যান অনুমোদনের জন্য আবেদন করেছেন। অনুমোদন হলে সরকারি তহবিলে টাকা জমা হবে। তবে তিনি দাবি করেন, একটি প্রভাবশালী মহল জোরপূর্বক নকশা ছাড়াই ভবন নির্মাণ করছে।
ভুক্তভোগী পৌরবাসী রাশেদুজ্জামান জানান, নিজের বাড়ির নকশা অনুমোদনের জন্য তাকে দুই মাস ঘুরতে হয়েছে। অথচ সিন্ডিকেটের মাধ্যমে অবৈধভাবে দ্রুত কাজ করিয়ে নেওয়া সম্ভব হচ্ছে। এতে সাধারণ মানুষ ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।
কালীগঞ্জ পৌরসভার প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নেজওয়ানা নাহিদ বলেন, প্ল্যান অনুমোদনের নামে অতিরিক্ত টাকা নেওয়ার বিষয়টি তার জানা ছিল না। অভিযোগের বিষয়টি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।