প্রিন্ট এর তারিখঃ জুলাই ১৮, ২০২৬, ৩:৪২ এ.এম || প্রকাশের তারিখঃ জুলাই ১৭, ২০২৬, ৫:৫১ পি.এম
ঘুমের ওষুধ খাইয়ে স্বর্ণালংকার লুটের পর হত্যা, নারী গ্রেপ্তার
নওগাঁ সরকারি ডিগ্রি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ অধ্যাপক শহীদুল আলমের স্ত্রী ফাতেমা বেগম (৬৫)-কে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে অচেতন করে স্বর্ণালংকার লুটের পর হত্যার ঘটনায় মূল অভিযুক্ত হাসিনা বেগম (৪৫)-কে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) রাতে নিজ কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে নওগাঁর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম জানান, গ্রেপ্তারকৃত হাসিনা প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ফাতেমা বেগমকে অচেতন করে স্বর্ণালংকার লুটের কথা স্বীকার করেছেন। লুট হওয়া গয়না বিক্রির সঙ্গে জড়িতদের শনাক্তে কাজ করছে পুলিশ।
পুলিশ জানায়, গত জুন মাসের শেষ দিকে ফাতেমা বেগমের সঙ্গে পরিচয় গড়ে তোলেন হাসিনা। পরে একটি ফলের জুসে ‘জিওনিল’ নামের ঘুমের ওষুধের ৬–৭টি ট্যাবলেট মিশিয়ে তাকে পান করান। অচেতন হয়ে পড়লে তার গলা ও হাতের স্বর্ণালংকার খুলে নিয়ে শহরের নদীপাড় এলাকার একটি ময়লার স্তূপে ফেলে পালিয়ে যান।
স্থানীয়রা ফাতেমা বেগমকে উদ্ধার করে প্রথমে নওগাঁ সদর হাসপাতাল এবং পরে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ২৫ জুন তিনি মারা যান। এ ঘটনায় নওগাঁ সদর থানায় হত্যা মামলা দায়ের হলে জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) ও সদর থানা-পুলিশ যৌথভাবে তদন্ত শুরু করে।
তদন্তে শহরের বিভিন্ন স্থানের ৮৭টি সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ এবং তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় সন্দেহভাজনকে শনাক্ত করা হয়। পরে নওহাটা এলাকা থেকে হাসিনাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশের দাবি, অভিযুক্ত লুট হওয়া স্বর্ণালংকার শহরের একটি জুয়েলারি দোকানে মাত্র ৫০ হাজার টাকায় বিক্রি করেছেন বলে স্বীকার করেছেন। এ ঘটনায় অন্য কেউ জড়িত রয়েছে কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম, সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আসাদুজ্জামানসহ জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।