ভারতের উত্তরপ্রদেশের মেরঠে ২০ লাখ রুপির বিমার অর্থ আত্মসাৎ এবং পরকীয়া সম্পর্কের জেরে স্বামীকে পরিকল্পিতভাবে হত্যার অভিযোগে এক নারী ও তার কথিত প্রেমিককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
পুলিশ জানায়, মেরঠের হস্তিনাপুর এলাকার বাসিন্দা অতুল পওয়ার ও তার স্ত্রী দামিনী যৌথভাবে একটি শিশু বিদ্যালয় পরিচালনা করতেন। ২০১৯ সালে তাদের বিয়ে হয়। শুক্রবার সকালে দামিনী প্রতিবেশীদের জানান, সাপের কামড়ে তার স্বামী অসুস্থ হয়েছেন। পরে তিনি অতুলকে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। ঘটনাস্থলে অতুলের বিছানা থেকে একটি বিষধর সাপও উদ্ধার হওয়ায় প্রথমে এটি সাপের ছোবলে মৃত্যু বলে ধারণা করা হয়।
তবে অতুলের পরিবারের সন্দেহের ভিত্তিতে পুলিশ তদন্ত শুরু করে। তদন্তে উঠে আসে, বিদ্যালয়ের গাড়িচালক তুষারের সঙ্গে দামিনীর পরকীয়ার সম্পর্ক ছিল। পরে দুজনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করলে হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনার তথ্য বেরিয়ে আসে।
পুলিশের দাবি, জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, তুষার এক সাপুড়ের কাছ থেকে একটি বিষধর সাপ সংগ্রহ করে দামিনীর কাছে দেন। ঘটনার রাতে দামিনী স্বামী অতুলকে ঘুমের ওষুধ মেশানো দুধ পান করান। তিনি ঘুমিয়ে পড়লে বিছানায় বিষধর সাপ ছেড়ে দেওয়া হয়, যার ছোবলে অতুলের মৃত্যু ঘটে।
তদন্তে আরও জানা গেছে, অতুলের নামে ২০ লাখ রুপির জীবনবিমা ছিল। সেই অর্থ আত্মসাৎ এবং পরকীয়া সম্পর্কের কারণে এই হত্যার পরিকল্পনা করা হয়েছিল বলে অভিযোগ পুলিশের।
এ ঘটনায় অতুলের স্ত্রী দামিনী ও তার কথিত প্রেমিক তুষারকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার বিস্তারিত তদন্ত চলছে এবং তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।