
২০২৪ সালের ২১ জুলাই কার্যত অবরুদ্ধ ছিল দেশের রাজধানী ঢাকা। গণঅভ্যুত্থানের ধারাবাহিক ঘটনাপ্রবাহের এই দিনে দেশজুড়ে কারফিউ জারি ছিল। একই সঙ্গে বন্ধ রাখা হয় ইন্টারনেট সেবা, ফলে জনজীবনে নেমে আসে স্থবিরতা।
কোটা সংস্কার আন্দোলন ঘিরে প্রশাসনের বলপ্রয়োগ ও দমন-পীড়নের ঘটনায় শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের ক্ষোভ দিন দিন তীব্র হতে থাকে। আন্দোলন তখন আর শুধু শিক্ষার্থীদের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না; তা ছড়িয়ে পড়ে সমাজের বিস্তৃত পরিসরে।
চলমান আন্দোলনের মধ্যেই ২১ জুলাই কোটা-সংক্রান্ত হাইকোর্টের আগের রায় বাতিল করে নতুন প্রজ্ঞাপন অনুমোদন করা হয়। তৎকালীন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক দাবি করেন, নতুন সিদ্ধান্তে শিক্ষার্থীদের দাবির প্রতিফলন ঘটেছে।
তবে ততক্ষণে আন্দোলনের গতিপথ বদলে যায়। কোটা সংস্কারের দাবিকে ছাপিয়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সংঘর্ষ এবং প্রাণহানির ঘটনাই হয়ে ওঠে প্রধান আলোচনার বিষয়।
এদিন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাঁর সরকারি বাসভবনে সংশ্লিষ্টদের নিয়ে একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক করেন। বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা উপদেষ্টাসহ বিভিন্ন বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন। সেখানে সার্বিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়।
এদিকে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন দমাতে সেনাবাহিনী মোতায়েনের পাশাপাশি কারফিউ বহাল রাখে তৎকালীন সরকার। প্রধান সড়কগুলোতে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি কমে এলেও রাজধানীর অলিগলিতে ক্ষোভ ও বিক্ষোভের আগুন ছড়িয়ে পড়ে।
কোটা সংস্কার আন্দোলন ঘিরে সৃষ্ট পরিস্থিতি সম্পর্কে ঢাকায় নিযুক্ত বিদেশি কূটনীতিকদেরও অবহিত করে সরকার। এ লক্ষ্যে তৎকালীন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাছান মাহমুদ রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় বিদেশি কূটনীতিকদের ব্রিফ করেন।
প্রকাশক ও সম্পাদক
মোঃ শাহিন হোসেন
www.dainikabhaynagar.com