যশোরের মণিরামপুর উপজেলার নেহালপুর-হাজিরহাট সড়কের ধর্মতলা এলাকায় প্রায় ৩ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণাধীন সেতুর কাজ তিন বছরেও শেষ না হওয়ায় কয়েকটি গ্রামের হাজারো মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। স্থানীয়দের অভিযোগ, এলজিইডি ও সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের অব্যবস্থাপনা এবং ধীরগতির কারণে দীর্ঘদিনেও সেতুটি চলাচলের উপযোগী করা সম্ভব হয়নি।
মণিরামপুর উপজেলা প্রকৌশল শাখা সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ২ কোটি ৭২ লাখ ৭৪ হাজার ৯৯২ টাকা ব্যয়ে সেতুটির নির্মাণকাজ ১ মে ২০২৪ সালে শুরু হয়ে ২৭ মার্চ ২০২৫ সালের মধ্যে শেষ হওয়ার কথা ছিল। মূল ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সাতক্ষীরার মো. ইকবাল জোমার্দার হলেও স্থানীয়ভাবে কাজ বাস্তবায়ন করছে ঠিকাদার আব্দুল খালেক।
স্থানীয়দের অভিযোগ, শ্রমিকরা কিছুদিন কাজ করে আবার দীর্ঘ সময় কাজ বন্ধ রাখেন। এভাবে দফায় দফায় কাজ চললেও গত তিন বছরে নির্মাণকাজ সন্তোষজনক অগ্রগতি পায়নি। বর্তমানে কাজ প্রায় ৪০ শতাংশের মতো সম্পন্ন হয়েছে বলে দাবি করেছেন ভুক্তভোগীরা।
সেতুটি নির্মাণাধীন থাকায় হাজিরহাট, পাঁচকাটিয়া, ধর্মতলা, ভুলবাড়িয়া, পাড়িয়ালি, পদ্মনাথপুর, পোড়াডাঙ্গা ও বাহাদুরপুরসহ কয়েকটি গ্রামের মানুষ ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছেন। শিক্ষার্থী, কৃষক, ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের ভোগান্তি চরমে পৌঁছেছে। বিশেষ করে মাছচাষিদের অতিরিক্ত ৮ থেকে ১০ কিলোমিটার ঘুরে পণ্য পরিবহন করতে হচ্ছে। সম্প্রতি অস্থায়ী পারাপারের পথে এক ব্যক্তি সাইকেলসহ খালে পড়ে আহত হওয়ার ঘটনাও ঘটেছে।
এ বিষয়ে মণিরামপুর উপজেলা প্রকৌশলী (এলজিইডি) ইয়াকুব আলী বলেন, সেতুর সাটারিংয়ের কাজ শেষ হয়েছে। দীর্ঘদিন জলাবদ্ধতা থাকায় নির্মাণকাজে জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে। যশোর জেলা এলজিইডির প্রকৌশলীও নির্মাণাধীন সেতু পরিদর্শন করেছেন।
সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সময় বৃদ্ধির জন্য আবেদন করেছে বলে জানা গেছে। তবে স্থানীয়দের প্রশ্ন, তিন বছরে সব সময় তো জলাবদ্ধতা ছিল না। তাই প্রকল্প বাস্তবায়নে দীর্ঘসূত্রতা ও দায় এড়ানোর প্রবণতা বন্ধ করে দ্রুত সেতুর নির্মাণকাজ শেষ করার দাবি জানিয়েছেন তারা।
প্রকাশক ও সম্পাদক
মোঃ শাহিন হোসেন
www.dainikabhaynagar.com