বগুড়ার শেরপুর উপজেলার চক খানপুর গ্রামের হাওলাদারপাড়ায় বাঙালি নদীর অব্যাহত ভাঙনে চরম আতঙ্ক ও অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটছে নদীপাড়ের মানুষের। কয়েক বছর ধরে চলমান ভাঙনে আবাদি জমি, ফসল ও অসংখ্য বসতভিটা নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। একসময় জনবসতিপূর্ণ এলাকাটি এখন অস্তিত্ব সংকটে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, হাওলাদারপাড়ায় একসময় প্রায় ১৩০টি পরিবারের বসবাস ছিল। নদীভাঙনের কারণে বহু পরিবার পৈত্রিক ভিটেমাটি হারিয়ে অন্যত্র চলে যেতে বাধ্য হয়েছে। বর্তমানে সেখানে প্রায় ৬০টি পরিবার বসবাস করছে। অবশিষ্ট পরিবারগুলোরও প্রতিদিন কাটছে নতুন করে ভাঙনের আশঙ্কায়।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, দীর্ঘদিনেও স্থায়ী নদীশাসন বা কার্যকর ভাঙনরোধে কোনো দৃশ্যমান উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। চলতি বর্ষা মৌসুমে বাঙালি নদীর তীব্র স্রোতে ভাঙন আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। স্থানীয়দের দাবি, শুধু চলতি বছরেই প্রায় ২০ থেকে ২৫ ফুট এলাকা নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে।
ভুক্তভোগী মংলা চন্দ্র হাওলাদার বলেন, “চোখের সামনে নদী সব গিলে খাচ্ছে। সারাজীবনের কষ্টে গড়া ঘর এখন ভাঙনের মুখে। প্রতিদিন আতঙ্ক নিয়ে ঘুমাতে যাই—সকালে উঠে যদি দেখি ঘরটাই নেই।”
আরেক বাসিন্দা উজ্জ্বল সরকার বলেন, “এ বছর নদীভাঙন অনেক বেড়েছে। বিষয়টি বারবার সংশ্লিষ্টদের জানানো হলেও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। পরিবার নিয়ে চরম অনিশ্চয়তায় দিন কাটছে।”
এলাকাবাসীর আশঙ্কা, দ্রুত নদীশাসন ও ভাঙনরোধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ না করলে অল্প সময়ের মধ্যেই অবশিষ্ট বসতভিটাও নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাবে। তাই তারা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ এবং স্থায়ী নদীশাসন প্রকল্প বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছেন।
প্রকাশক ও সম্পাদক
মোঃ শাহিন হোসেন
www.dainikabhaynagar.com