
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ঘিরে উত্তাল জুলাইয়ের ২৫ তারিখ ছিলো এক চরম উদ্বেগ ও আতঙ্কের দিন। একদিকে দেশজুড়ে থমথমে অবস্থা, অন্যদিকে চলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সাঁড়াশি অভিযান ও গণগ্রেফতার। আন্দোলনের হতাহতকে গুরুত্ব না দিয়ে মেট্রোরেলের ক্ষয়ক্ষতিকে সামনে নিয়ে আসায় ব্যাপক সমালোচিত হন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
চব্বিশের জুলাই এর ২৫ তারিখ কারফিউ কিছুটা শিথিল ছিল। অফিস-আদালত ছিলো খোলা। বেলা ১০টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত ৭ ঘন্টা কারফিউ শিথিল থাকায় কিছুটা কর্মব্যস্ততায় ফেরে নগরী। তবে ভয় আর চাপা আতঙ্ক ছিল মানুষের চোখেমুখে।
জুলাই আন্দোলনে শত শত প্রাণহানির উপর দাঁড়িয়ে এদিন নতুন নাটক মঞ্চায়ন করেন শেখ হাসিনা। হতাহতের ঘটনা কিংবা আন্দোলনকে গুরুত্ব না দিয়ে তিনি যান মেট্রোরেল পরিদর্শনে। ব্যাপক প্রাণহানিকে পাশ কাটিয়ে স্থাপনার ক্ষয়ক্ষতিকে তুলে ধরে দেশবাসীকে রুখে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান শেখ হাসিনা।
জুলাই আন্দোলন প্রতিহতে তেজগাঁও ঢাকা জেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে বসে উত্তরের নেতাকর্মীদের বৈঠক। এতে ওবায়দুল কাদের অভিযোগ করেন, তারেক রহমানের নির্দেশেই হামলা হয়েছে।
এদিকে, বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এক বিবৃতিতে অভিযোগ করেন, রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস আড়াল করতে এবং উদোর পিন্ডি বুধোর ঘাড়ে চাপানোর অপকৌশল হিসেবে বিএনপির নির্দোষ নেতাকর্মীদের গ্রেফতার করা হচ্ছে।নেতাকর্মীদেরকে বাসায় না পেয়ে তাদের সন্তান কিংবা বাসার সদস্যদের গ্রেফতার করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
বাংলাভিশনের গুগল নিউজ ফলো করতে ক্লিক করুন
কারফিউর মধ্যে আওয়ামী লীগ সরকার চালায় গণগ্রেফতার। বিএনপি নেতাকর্মীদের বাসাবাড়িতে অভিযান চালিয়ে গ্রেফতার করা হয়। হেলিকপ্টার থেকে আন্দোলনকারীদের ওপর গুলি করার অভিযোগ জোরালো হতে থাকে। কারফিউ শিথিল থাকায় জনমনে আতঙ্কের মধ্যেই সেদিন রাজধানীতে দোকানপাট খোলা রাখা হয়। সীমিত আকারে চলে যানবাহন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর টহল ও চেকপোস্ট ছিল বিভিন্ন এলাকায়।
প্রকাশক ও সম্পাদক
মোঃ শাহিন হোসেন
www.dainikabhaynagar.com