
এক কোটি টাকা যৌতুক দাবি করে স্ত্রীকে মারধরের অভিযোগে দায়ের হওয়া মামলায় গ্রেফতার টিকটকার আব্দুল্লাহ আল মামুন ওরফে প্রিন্স মামুনের জামিন আবেদন খারিজ করেছেন আদালত।
বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) উভয়পক্ষের শুনানি নিয়ে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. ইসমাইল এ আদেশ দেন।
এদিন শুনানিতে প্রিন্স মামুনের পক্ষে আইনজীবী পলাশ চন্দ্র রায় ও আব্দুল্লাহ আল মামুন জামিন আবেদন করেন। অন্যদিকে, জামিনের বিরোধিতা করেন মামলার বাদী ও মামুনের স্ত্রী আতিকিয়া ফাইজাহ মোহনা ও তার আইনজীবী সরকার সাব্বির হোসাইন ফয়সাল।
আদালতে আসামিপক্ষের আইনজীবী দাবি করেন, স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে পারিবারিক বিরোধের ঘটনাকে অতিরঞ্জিত করে উপস্থাপন করা হয়েছে। তিনি বলেন, মামলায় উল্লেখিত আঘাতের পক্ষে পর্যাপ্ত চিকিৎসা-সংক্রান্ত নথি নেই। এছাড়া ঘটনার ভিডিওতে উভয়পক্ষের মধ্যে হাতাহাতির চিত্র রয়েছে বলেও তিনি আদালতকে জানান।
শুনানিতে তিনি আরও বলেন, এক কোটি টাকা যৌতুক দাবি করার অভিযোগ বাস্তবসম্মত নয়। এছাড়া এটি একতরফা মারধরের ঘটনা নয়, বরং দুজনের মধ্যে মারামারি হয়েছে।
এসময় সাক্ষীর কাঠগড়ায় উপস্থিত ছিলেন মোহনা। বিচারক তাকে জিজ্ঞাসা করেন, প্রিন্স মামুন কি পরিচিত ব্যক্তি? উত্তরে তিনি বলেন, ‘বিখ্যাত’। পরে বিচারক জানতে চান, বিখ্যাত জেনেই কি তাকে বিয়ে করেছেন? জবাবে মোহনা বলেন, ‘পাঁচ মাস আগে বিয়ে করেছি। এই পাঁচ মাসে আমাকে অনেক টর্চার করেছে।’
বাদীপক্ষের আইনজীবী আদালতে বলেন, বিয়ের পর থেকেই মামুন বিভিন্ন সময় টাকা ধার নেওয়ার পাশাপাশি এক কোটি টাকা যৌতুক দাবি করেন। দাবি পূরণ না হওয়ায় মোহনাকে শারীরিক নির্যাতন করা হয়েছে।
মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, বিয়ের পর থেকেই বিভিন্ন বিষয় নিয়ে প্রিন্স মামুন ও মোহনার দাম্পত্য সম্পর্কে বিরোধ সৃষ্টি হয়। মামুন দোকান দেওয়ার জন্য এক কোটি টাকা যৌতুক দাবি করেন এবং টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে স্ত্রীকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করেন।
এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়, গত ২৩ জুলাই দিনগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় মোহনার বাসায় গিয়ে মামুন নেশাগ্রস্ত অবস্থায় আবারও এক কোটি টাকা দাবি করেন। টাকা না দেওয়ায় দুজনের মধ্যে বাগবিতণ্ডা শুরু হলে তিনি মোহনাকে কিল-ঘুষি ও লাথি মারেন। তার গলা চেপে হত্যার চেষ্টা করেন। এতে তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন সৃষ্টি হয়।
এর আগে একই অভিযোগে দায়ের করা মামলায় গত ২৪ জুলাই প্রিন্স মামুনকে কারাগারে পাঠানো হয়। পরে ২৩ জুলাই গভীর রাতে ফেসবুক লাইভে এসে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে শাড়ি পেঁচিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করার অভিযোগে দায়ের হওয়া আরেক মামলায় ২৫ জুলাই তাকে গ্রেফতার দেখানোর আবেদন করা হয়। সেই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত তাকে ওই মামলাতেও গ্রেফতার দেখান।
প্রকাশক ও সম্পাদক
মোঃ শাহিন হোসেন
www.dainikabhaynagar.com