কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার ঐতিহাসিক দাসিয়ারছড়া ছিটমহল মুক্তির ১১তম বার্ষিকী নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে উদযাপিত হয়েছে। দীর্ঘ ৬৮ বছরের রাষ্ট্রহীনতা, বঞ্চনা ও বৈষম্যের অবসানের ঐতিহাসিক দিনটি স্মরণে শুক্রবার (৩১ জুলাই) রাতে আলোচনা সভা, মোমবাতি প্রজ্বলন ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে স্থানীয় বাসিন্দা, রাজনৈতিক নেতাকর্মী, সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধি এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেন। পুরো আয়োজনজুড়ে ছিল দেশপ্রেম, আবেগ এবং ছিটমহল আন্দোলনের গৌরবময় ইতিহাস নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরার প্রত্যয়।
প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কুড়িগ্রাম জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির সদস্য সচিব আলহাজ্ব সোহেল হোসনাইন কায়কোবাদ। তিনি বলেন, “দাসিয়ারছড়া ছিটমহলের মুক্তি বাংলাদেশের ইতিহাসে এক গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায়। দীর্ঘদিনের রাষ্ট্রহীনতার অবসান ঘটিয়ে এখানকার মানুষ আজ স্বাধীন বাংলাদেশের পূর্ণ নাগরিক হিসেবে অধিকার ভোগ করছেন।”
তিনি ছিটমহল মুক্তির আন্দোলনে অবদান রাখা সংগ্রামী মানুষ ও শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান এবং এলাকার উন্নয়ন ও গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।
বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন ফুলবাড়ী উপজেলা বিএনপির সদ্য সাবেক সাধারণ সম্পাদক মান্নান মুকুল, কুড়িগ্রাম জেলা যুবদলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি নাসিম পারভেজ তারা, জেলা ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. হাসান জোবায়ের হিমেল, উপজেলা ছাত্রদল ও যুবদলের সাবেক সভাপতি শামসুজ্জামান হাসু এবং ফুলবাড়ী উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক আব্দুল খালেক। এছাড়াও উপজেলা বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
আলোচনা সভা শেষে ছিটমহল মুক্তির স্মরণে মোমবাতি প্রজ্বলন করা হয়। পরে স্থানীয় শিল্পীদের অংশগ্রহণে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।
উল্লেখ্য, ২০১৫ সালের ৩১ জুলাই মধ্যরাতে বাংলাদেশ-ভারত ছিটমহল বিনিময় চুক্তি বাস্তবায়নের মাধ্যমে দীর্ঘ ৬৮ বছরের রাষ্ট্রহীনতার অবসান ঘটে। বাংলাদেশের অভ্যন্তরে থাকা ভারতের ১১১টি ছিটমহল বাংলাদেশের সঙ্গে এবং ভারতের অভ্যন্তরে থাকা বাংলাদেশের ৫১টি ছিটমহল ভারতের সঙ্গে যুক্ত হয়। এর ফলে দাসিয়ারছড়াসহ ছিটমহলবাসীর জীবনে নতুন অধ্যায়ের সূচনা হয়।
বর্তমানে দাসিয়ারছড়ায় শিক্ষা, স্বাস্থ্য, যোগাযোগ, বিদ্যুৎ, কৃষি, স্যানিটেশন ও সামাজিক নিরাপত্তাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য উন্নয়ন হয়েছে। তবে এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি, সাবেক এই ছিটমহলকে পূর্ণাঙ্গ ইউনিয়ন হিসেবে ঘোষণা করা হোক। তাদের মতে, ইউনিয়নের স্বীকৃতি পেলে প্রায় ১৪ থেকে ১৫ হাজার মানুষের প্রশাসনিক সেবা আরও সহজলভ্য হবে এবং উন্নয়নের গতি বাড়বে।
দাসিয়ারছড়ার মুক্তির ইতিহাস শুধু একটি জনপদের স্বাধীনতার গল্প নয়, এটি অধিকার আদায়ের দীর্ঘ সংগ্রাম ও মানুষের অদম্য প্রত্যয়ের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।
প্রকাশক ও সম্পাদক
মোঃ শাহিন হোসেন
www.dainikabhaynagar.com