ইলিশের ভরা মৌসুম চললেও পটুয়াখালীর মহিপুর মৎস্য বন্দরের বাজারে কাঙ্ক্ষিত ইলিশের দেখা মিলছে না। অল্প কিছু মাছ ধরা পড়লেও চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম থাকায় দাম রয়েছে চড়া। এতে হতাশ হয়ে পড়েছেন জেলে, আড়তদার, ব্যবসায়ী ও সাধারণ ক্রেতারা।
জেলেদের দাবি, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে বঙ্গোপসাগরের পানির তাপমাত্রা বাড়ছে। এতে ইলিশের প্রজনন ও বিচরণের স্বাভাবিক পরিবেশ ব্যাহত হচ্ছে। পাশাপাশি নদীর নাব্যতা কমে যাওয়ায় সাগর থেকে মিঠা পানির টানে ইলিশের নদীতে আসার পথও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। মৎস্য সংশ্লিষ্টরা জানান, সাগর-মোহনা, রাবনাবাদ ও তেঁতুলিয়া নদীর মোহনায় ডুবোচর সৃষ্টি হওয়ায় পানির গভীরতা কমেছে।
জেলেদের অভিযোগ, নদী ও সাগরে প্লাস্টিক, শিল্পবর্জ্য ও কীটনাশকসহ বিভিন্ন দূষণ বাড়ছে। এতে পানির গুণগত মান, ইলিশের খাদ্যচক্র ও আবাসস্থল ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। উপকূলীয় নদীতে লবণাক্ততার অনুপ্রবেশও ইলিশের প্রজনন পরিবেশে বিরূপ প্রভাব ফেলছে।
এ ছাড়া নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে কারেন্ট জাল, ক্ষতিকর ট্রল নেট ও চায়না দুয়ারি জাল ব্যবহার করে জাটকা, পোনা ও মা ইলিশ ধরার অভিযোগ রয়েছে। ব্যবসায়ীদের দাবি, সাগরে ট্রলিং ফিশিং জাহাজের অবাধ বিচরণও মাছের প্রজনন ও ছোট মাছের উৎপাদন ব্যাহত করছে।
আশাখালী বাজারের জেলে রহিম ব্যাপারী বলেন, এক নৌকায় ছয়জন জেলে সারারাত নদীতে থেকে প্রায় ১১ হাজার টাকার মাছ পেয়েছেন। জ্বালানি, খাবার ও নৌকার মালিকের অংশসহ অন্যান্য খরচ বাদ দেওয়ার পর জনপ্রতি প্রায় ৭০০ টাকা করে পেয়েছেন তারা। মাছ বিক্রেতা নবীর হোসেন বলেন, এ সময়ে বাজারে ক্রেতা-বিক্রেতার ভিড় থাকার কথা থাকলেও এখন বেচাকেনা অনেক কম।
বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, ছোট ইলিশ প্রতি মণ ২০ থেকে ২২ হাজার টাকা, মাঝারি আকারের ইলিশ প্রায় ৪০ হাজার টাকা এবং বড় আকারের ইলিশ সর্বোচ্চ ১ লাখ ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে।
জেলে ও মৎস্য ব্যবসায়ীরা অবৈধ জাল ও ট্রলিং বন্ধ, জাটকা ও মা ইলিশ নিধন রোধ, নদীর নাব্যতা ফিরিয়ে আনা এবং ইলিশের প্রজনন ও বিচরণক্ষেত্র সুরক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
প্রকাশক ও সম্পাদক
মোঃ শাহিন হোসেন
www.dainikabhaynagar.com