
টেকনাফ প্রতিনিধি
কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার শাহ পরীর দ্বীপে বড়শিতে ১৮ কেজি ওজনের একটি ‘কালো পোপা’ মাছ ধরা পড়ছে; যার দাম হাঁকা হচ্ছে লাখ টাকার বেশি।
সোমবার ভোর ৬টার দিকে সেন্ট মার্টিনের পশ্চিম পাশে মৌলভীর শীল এলাকায় নৌকার মালিক নুরুল হকের বড়শিতে মাছটি ধরা পড়ে বলে জানান শাহ পরীর দ্বীপ নৌকার মালিক সমবায় সমিতির সভাপতি আবদুল গফুর।
দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে শাহপরীর দ্বীপ পশ্চিম পাড়া নৌকার ঘাটে এসে পৌঁছালে মাছটি দেখতে ভিড় জমায় স্থানীয় ও পর্যটকরা। পরে মাঝি-মাল্লারা মাছটি ফিশারি ঘাটে নিয়ে যান বিক্রির জন্য ।
ট্রলারের মালিক নুরুল হক বলেন, “ভোরে নৌকায় বড়শিতে ধরা পড়েছে ১৮ কেজি ওজনের একটি ‘কালো পোপা’। মাছটির দাম চাইছি এক লাখ ২০ হাজার টাকা। স্থানীয় এক মাছ ব্যবসায়ী ৭০ হাজার টাকা দিতে চাইছিল। ভালো দামে বিক্রির আশায় মাছটি ফ্রিজিং করে কক্সবাজার শহরে নিয়ে যাচ্ছি।”
নৌকার মাঝি মোহাম্মদ হোছেন বলেন, “ভোর ৪টার দিকে তিন মাঝি-মাল্লাসহ নৌকা নিয়ে বঙ্গোপসাগরের উদ্দেশে রওনা হই। ভোর ৫টার দিকে সাগরে বড়শি ফেলা শুরু করি। কিছুক্ষণের মধ্যে বড়শিতে তিনটা মাছ ধরা পড়ে। দুটি লাল কোরাল ও আর একটি কালো পোপা। কালো পোপা মাছটি পেয়ে আর বড়শি না ফেলে কূলে ফিরে আসি।”
শাহপরীর দ্বীপ নৌকার মালিক সমবায় সমিতির সভাপতি আবদুল গফুর বলেন, “সাগরে পোপা মাছ সব সময় পাওয়া যায় না। মোহাম্মদ হোছেন মাঝি খুব ভাগ্যবান মানুষ। প্রতি বছর কয়েকটি করে পোপা মাছ পেয়ে থাকেন তিনি। এবারও মৌসুমীর শুরুতে ১৮ কেজি ওজনের একটি পোপা মাছ ধরা পড়েছে।”
মাছ ধরার খবর পাওয়ার কথা জানিয়ে টেকনাফ উপজেলার মৎস্য কর্মকর্তার প্রতিনিধি শহিদুল আলম বলেন, এ সময় টেকনাফ উপকূলে সাধারণত ‘কালো পোপা’ মাছ ধরা পড়ে। এ মাছের বায়ুথলি বেশ মূল্যবান বলে দামও অনেক বেশি।
“এই মাছের বৈজ্ঞানিক নাম মিকটেরোপারকা বোনাসি (Mycteroperca bonaci)। এ মাছের বায়ুথলি দিয়ে বিশেষ ধরনের সার্জিক্যাল সুতা তৈরি করা যায় বলে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এই মাছের চাহিদা আছে।”
প্রকাশক ও সম্পাদক
মোঃ শাহিন হোসেন
www.dainikabhaynagar.com