চট্টগ্রাম–১৫ আসনকে ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে দিন দিন বাড়ছে উত্তাপ। আসন্ন জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে এই আসনে জামায়াতে ইসলামী ও বিএনপির প্রস্তুতি ও কৌশলে স্পষ্ট ভিন্ন চিত্র ফুটে উঠছে। একদিকে জামায়াত একক প্রার্থী নিয়ে মাঠ গোছাতে প্রায় শেষ পর্যায়ে, অন্যদিকে বিএনপিতে একাধিক পদপ্রার্থীর কারণে সৃষ্টি হয়েছে অভ্যন্তরীণ টানাপোড়েন ও অনিশ্চয়তা।
জানা গেছে, চট্টগ্রাম–১৫ আসনে জামায়াতে ইসলামী ইতোমধ্যে একজন প্রার্থীকে সামনে রেখে সংগঠনের সাংগঠনিক কার্যক্রম ও গণসংযোগ জোরদার করেছে। তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের নিয়ে ধারাবাহিক সভা, মতবিনিময় এবং ভোটারদের সাথে যোগাযোগ কার্যক্রম প্রায় শেষের দিকে। দলীয় সূত্র বলছে, প্রার্থী নির্ধারণ নিয়ে কোনো বিভ্রান্তি না থাকায় মাঠ পর্যায়ে জামায়াতের কর্মীরা বেশ আত্মবিশ্বাসী ও ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করছেন।
অন্যদিকে বিএনপির চিত্র ভিন্ন। এই আসনে বিএনপি থেকে তিনজন সম্ভাব্য প্রার্থী মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছেন। এর মধ্যে একজনকে প্রাথমিকভাবে মনোনয়নের সংকেত দেওয়ার পর থেকেই শুরু হয়েছে নিজেদের মধ্যে দন্দ্ব ও অসন্তোষ। তৃণমূল পর্যায়ে বিভক্তি স্পষ্ট হয়ে উঠছে, যা দলের নির্বাচনী প্রস্তুতিকে প্রশ্নের মুখে ফেলছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
স্থানীয় পর্যায়ের অনেক নেতাকর্মী বলছেন, একাধিক প্রার্থী থাকায় বিএনপির সাংগঠনিক শক্তি দুর্বল হচ্ছে এবং মাঠের রাজনীতিতে এর প্রভাব পড়ছে। দ্রুত চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না এলে নির্বাচনী কৌশলে পিছিয়ে পড়ার আশঙ্কাও করছেন তারা
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, চট্টগ্রাম–১৫ আসনে জামায়াতের একক প্রার্থী ও সংগঠিত প্রস্তুতি তাদের জন্য ইতিবাচক বার্তা দিচ্ছে। বিপরীতে, বিএনপির অভ্যন্তরীণ কোন্দল যদি দ্রুত নিরসন না হয়, তাহলে এই আসনের সমীকরণ বড় ধরনের পরিবর্তনের দিকে যেতে পারে।
সব মিলিয়ে, ভোটের মাঠে নামার আগেই চট্টগ্রাম–১৫ আসন এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। কে শেষ পর্যন্ত সুবিধাজনক অবস্থানে যাবে—জামায়াতের সংগঠিত অগ্রযাত্রা নাকি বিএনপির সমাধানহীন টানাপোড়েন সেদিকে তাকিয়ে আছে পুরো এলাকার রাজনৈতিক মহল।