পুলিশী রাষ্ট্র কায়েমের মাধ্যমে দীর্ঘ ১৫ বছরের আওয়ামী ফ্যাসিস্টরা ভয়ানক অপশাসন চালিয়েছে। এ সময়ে পুলিশের সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদ সব থেকে বেপরোয়া ছিলেন। তিনি পুলিশের কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তার মাধ্যমে বিভিন্নভাবে লুটপাট করে শত কোটি টাকার মালিক হয়েছেন, তাদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন এআইজি আর্মস, ইকুইপমেন্টস পদোন্নতিপ্রাপ্ত অতিরিক্ত ডিআইজি নাজমুল ইসলাম (২৪ বিসিএস)। বর্তমানে তিনি ৬ এপিবিএন এর অধিনায়ক হিসেবে খাগছড়ির মহলছড়িতে বহাল তবিয়তে রয়েছেন। বেনজির আহমেদ পুলিশের আইজিপি হিসেবে দায়িত্ব পালনকালীন তার সমসাময়িক যে সকল অধীনস্থ কর্মকর্তা বিভিন্ন ক্রয় কমিটি এবং টেন্ডারবাজীর মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ কমিশন গ্রহণ এবং তার বন্টনে যারা জড়িত ছিল, সেই সময়কালীন তাদের ঔদ্ধত্বপূর্ণ আচরণ এবং ক্ষমতার অপব্যবহারে তারা নিজেদেরকে অধিক শক্তিশালী এবং ধরাছোঁয়ার বাহিরে বলে মনে করতেন। হাতে ধরা গুটি কয়েক কন্টাক্টর ব্যতীত এ কাজগুলো কখনোই বাহিরে যেতনা। নামমাত্র পেপার পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রদানের মাধ্যমে টেন্ডার পাস করা হতো। দফায় দফায় বৈঠকে বিভিন্নভাবে কৌশলে গুলশান, বনানীর বড় বড় রেস্তোরাঁতে এবং তৎকালীন আইজিপির বাসভবনেও মিটিং এর মাধ্যমে এ ধরনের কন্টাক্টদের সাথে কমিশনের লেনদেন এবং বোঝাপড়া নির্ধারিত হতো। কমিশনের এই বড় অংকের টাকাগুলো
অতিরিক্ত ডিআইজি নাজমুল ইসলাম আওয়ামী ফ্যাসিস্টের সময় আইজিপি বেনজিরের ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত ছিলেন, তিনি বিভিন্ন মাধ্যমে শত কোটির টাকার দুর্নীতি করেছেন। বর্তমানে তিনি বিএনপি নেতাদের সঙ্গে সখ্য গড়ার চেষ্টা করছেন
তৎকালীন আইজিপি বেনজীর আহমেদর এর অধীনস্থ এআইজি বর্গ তার বাসায় হস্তান্তর করতেন। কন্টাক্টরদের সাথে এ কমিশন বণ্টনের মাধ্যমে তারাও তাদের আখের গোছাতে পিছপা হননি। মুক্তিযোদ্ধার কোটাপ্রাপ্ত এই অফিসার তার জেলা শহর যশোরে মুক্তিযোদ্ধা সংগঠনের বিল্ডিং কে দখল করে বাসা বাড়ির গড়েছেন। প্রশ্ন হল এ অফিসার এখনো যদি বহাল তবিয়তে ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক হিসেবে মহলছড়ি, খাগড়াছড়ি ৬ এপিবিএন তে দায়িত্ব পালন করছেন। দফায় দফায় বিএনপি এর নেতাদের সাথে বৈঠকে নিজেকে ছাত্র সংগঠনের বিএনপি নেতার পরিচয় দিয়ে বেড়াচ্ছেন। এভাবে নিজেকে সুবিধা বাদী রাজনৈতিক দল বদলের সুযোগ গ্রহণ করে তিনি নিজেকে আড়াল করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। তার শ্বশুরালয় উপজাতি সম্প্রদায়ের এবং তার পরিবারের সদস্যরা হিন্দু ধর্মাবলম্বী, এমতাবস্থায় তাঁকে 'র' এর এজেন্ট হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছিল। দেশে বিভিন্ন অরাজকতা সৃষ্টির পিছনে এখনও তার হাত রয়েছে।
প্রকাশক ও সম্পাদক
মোঃ শাহিন হোসেন
www.dainikabhaynagar.com