প্রিন্ট এর তারিখঃ মার্চ ১০, ২০২৬, ১২:৫৮ এ.এম || প্রকাশের তারিখঃ ডিসেম্বর ২৬, ২০২৫, ১২:৩৮ পি.এম

আগামী শিক্ষাবর্ষের নতুন পাঠ্য পুস্তকের সুঘ্রাণে মৌ মৌ করছে ঈদগাঁও উপজেলা। নবগঠিত এ উপজেলার উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের অস্থায়ী কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, এবার সরকারি- বেসরকারি মিলে এ উপজেলায় ৪৯ টি স্কুলে বিনামূল্যের বই উৎসব অনুষ্ঠিত হবে। এরমধ্যে ৩৯ টি হচ্ছে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়।
বাকিগুলি বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। আগামী ১লা জানুয়ারি এ উৎসব অনুষ্ঠিত হবার কথা। এ উপলক্ষে বৃহস্পতিবার ২৫ ডিসেম্বর সকাল থেকে স্কুল ভিত্তিক বই বিতরণ কার্যক্রম শুরু হয় উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের অস্থায়ী কার্যালয় ঈদগাঁও সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে। চাহিদার অনুপাতে প্রাপ্ত বই সংখ্যা নিজ নিজ স্কুলে নিয়ে যাচ্ছেন প্রধান শিক্ষক ও তাদের প্রতিনিধিরা। সকাল থেকেই বিভিন্ন স্কুলের প্রধান শিক্ষক ও প্রতিনিধিদের আনাগোনা পরিলক্ষিত হয়।
ঈদগাঁও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মনজুর আলম জানান, এখন পর্যন্ত প্রাক-প্রাথমিক থেকে পঞ্চম শ্রেণীর মোট ২৬ হাজার ৮ শতটি বই পাওয়া গেছে। তবে চাহিদা ছিল ৩৮ হাজার ৭ শতটি। এখনো পাওয়া যায়নি ১১ হাজার ৯ শত টি। কক্সবাজার সদর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস থেকে এসব বই পাঠানো হয়। তিনি আরো বলেন, কক্সবাজার সদর উপজেলা প্রশাসন থেকে বই না দেয়ায় এ বিপুল বইয়ের ঘাটতি দেখা দিয়েছে।
বিষয়ভিত্তিক প্রাপ্ত বইয়ের মধ্যে রয়েছে বাংলা, ইংরেজি, গণিত, বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, প্রাথমিক বিজ্ঞান এবং ধর্ম ও নৈতিক শিক্ষা।
তিনি আরো জানান, শ্রেণী ভিত্তিক প্রাপ্ত বইয়ের সেটের মধ্যে রয়েছে প্রাক- প্রাথমিকের এক হাজার সেট, প্রথম শ্রেণীর এক হাজার সেট, দ্বিতীয় শ্রেণীর এক হাজার সেট, তৃতীয় শ্রেণীর তেরশত সেট, চতুর্থ শ্রেণীর এক হাজার সেট এবং পঞ্চম শ্রেণীর এক হাজার সেট।
পুরো উপজেলার চাহিদার মধ্যে ছিল প্রাক প্রাথমিকের ১৪ শত সেট, প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় শ্রেণীর ১৫ শত সেট করে এবং চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণীর ১৬ শত সেট করে।
মোট চাহিদাকৃত বইয়ের সংখ্যা ছিল ৩৭ হাজার সাত শতটি। আর পাওয়া গেছে ২৬ হাজার ৮ শতটি। এখনো বিভিন্ন বিষয়ের পাওয়া যায়নি ১১ হাজার ৯ শত টি বই।
উপজেলার পূর্ব পোকখালী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ আনোয়ারুজ্জামান জানান, তার বিদ্যালয়ে ১৬০ জনের মতো শিক্ষার্থী রয়েছে। তিনি হিন্দু ধর্ম ও নৈতিক শিক্ষার বিভিন্ন ক্লাসের সাতটি বইয়ের চাহিদা দিয়েছিলেন। সে বইগুলো এখনো পৌঁছায়নি। বিষয়টি তিনি ঈদগাঁও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মনজুর আলমকে জানালে প্রতি উত্তরে তিনি বলেন, প্রাপ্ত চাহিদা তিনি উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে যথাসময়ে পৌঁছিয়েছেন। তারা বই বরাদ্দ না দিলে তাঁর করার কিছুই নেই।
ইসলামাবাদ গজালিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সমীর পাল জানান, তিনি ও চাহিদাকৃত বই নিতে এসেছেন। আশা করি চাহিদাকৃত সকল বই বুঝে পাবেন।
ঈদগাঁও কালির ছড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শম্পা পাল জানান, ডাক পেয়ে তিনিও তার স্কুলের অনুকূলে বরাদ্দকৃত বই নেয়ার জন্য ঈদগাঁও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে স্থাপিত উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে আসেন।
ইসলামপুর নাপিতখালী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবুল মরগোব এমদাদ আহমদকে তাঁর স্কুলের জন্য বই বুঝে নিতে দেখা যায়। তার মত আরো অনেক শিক্ষককে নিজ নিজ স্কুলের জন্য বই সংগ্রহ করতে আসেন।
এ প্রতিনিধি বই বিতরণ স্থলে অবস্থানকালে দেখতে পান যে, পাল পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মোঃ ইকবাল হোসেনও নিজ বিদ্যালয়ের অনুকূলে প্রাপ্ত বই বুঝে নিতে এসেছেন।
এদিকে বৃহস্পতিবার বড়দিনের সরকারি ছুটি থাকায় উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার আব্দুর রহমান ভূঁইয়া অস্থায়ী অফিসে না থাকায় ফোনে তার সাথে যোগাযোগ করা হয়। তিনি জানান, আশা করছি অবশিষ্ট বইগুলো চলতি মাসের মধ্যে চলে আসলে আমরা যত দ্রুত সম্ভব বিতরণ করে দেব।