প্রিন্ট এর তারিখঃ মার্চ ১০, ২০২৬, ২:১৭ এ.এম || প্রকাশের তারিখঃ ডিসেম্বর ২৭, ২০২৫, ৬:১৬ পি.এম
প্রতারণা ও অর্থ আত্মসাতের মামলা’য় বাগমারার আঁত তিজারা প্রধান হালিম-গ্রেপ্তার
অধিক মুনাফার প্রলোভন দেখিয়ে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে বিপুল অঙ্কের টাকা নিয়ে ফেরত না দেওয়ার অভিযোগে রাজশাহীর বাগমারায় আঁত তিজারা লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবদুল হালিম (৫৩) ওরফে ‘জেএমবি হালিম’কে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
তিনি বাগমারা উপজেলার গণিপুর ইউনিয়নের তাহির একডালা গ্রামের মোবারক হোসেনের ছেলে।
শুক্রবার (২৬ ডিসেম্বর) দুপুরে তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়।
বাগমারা থানা পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে রাজশাহী মহানগর পুলিশের সহায়তায় রাজশাহী শহরের একটি বাড়িতে অভিযান চালিয়ে পলাতক আবদুল হালিমকে গ্রেপ্তার করা হয়। দীর্ঘদিন ধরে তিনি আত্মগোপনে ছিলেন এবং বিভিন্ন স্থান পরিবর্তন করে অবস্থান করছিলেন। গ্রেপ্তারের পর শুক্রবার তাকে আদালতে হাজির করা হলে বিচারক তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
পুলিশ জানায়, আবদুল হালিম আঁত তিজারা লিমিটেড নামের একটি এনজিও পরিচালনা করতেন। প্রতিষ্ঠানটির মাধ্যমে তিনি অধিক মুনাফার আশ্বাস দিয়ে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে আমানত সংগ্রহ করতেন। নির্ধারিত সময় পার হলেও গ্রাহকদের টাকা বা লাভের অর্থ ফেরত না দিয়ে বিভিন্নভাবে টালবাহানা করতেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
বাগমারা থানার এসআই আবু জাহিদ শেখ জানান, উপজেলার দক্ষিণ মাঝগ্রামের বাসিন্দা আনোয়ারা বেগম নামের এক নারী প্রতারণার অভিযোগে থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলার এজাহার অনুযায়ী, আবদুল হালিম অধিক মুনাফার প্রলোভন দেখিয়ে দুই দফায় আনোয়ারা বেগমের কাছ থেকে সাত লাখ টাকা গ্রহণ করেন। মেয়াদ উত্তীর্ণ হওয়ার পরও টাকা ফেরত না দিয়ে উল্টো তাকে হুমকি দেওয়া হয়। উপায় না পেয়ে তিনি আইনের আশ্রয় নেন।
স্থানীয় একাধিক সূত্র জানায়, আবদুল হালিমের বিরুদ্ধে অতীতে জঙ্গি সংগঠন জামায়াতুল মুজাহিদুল বাংলাদেশ (জেএমবি)-এর সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগে সাড়ে ৩১ বছরের সাজা হওয়ার তথ্য রয়েছে। এছাড়াও তার বিরুদ্ধে জমি দখলসহ একাধিক অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, বাগমারা কৃষক দলের নেতা মেজবাহুল হক দুলুর জমি দখলের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। আঁত তিজারা লিমিটেডের মাধ্যমে বিপুল সংখ্যক গ্রাহকের আমানত আত্মসাৎ এবং টাকা ফেরত চাইলে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ দীর্ঘদিনের। এমনকি ঋণগ্রহীতারা ঋণ পরিশোধ করার পরও তাদের বিরুদ্ধে মামলা দিয়ে হয়রানি করা হয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।
এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ভুক্তভোগীরা দ্রুত তাদের টাকা ফেরত পাওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
প্রকাশক ও সম্পাদক
মোঃ শাহিন হোসেন
www.dainikabhaynagar.com