সংসদীয় আসন যশোর-৪ (বাঘারপাড়া–অভয়নগর–বসুন্দিয়া) আসনে বিএনপির মনোনয়ন নিয়ে তৈরি হয়েছে জটিলতা ও ধোঁয়াশা। দলটির মনোনয়ন ‘ধানের শীষ’ প্রতীকে কার হাতে—এ প্রশ্ন ঘিরে বিভ্রান্তিতে পড়েছেন স্থানীয় নেতা-কর্মী ও সমর্থকরা। ইতোমধ্যে বাঘারপাড়া থেকে ইঞ্জিনিয়ার টিএস আইয়ুব এবং অভয়নগর থেকে ফারাজী মতিয়ার রহমান—উভয়েই নিজ নিজ অবস্থান থেকে বিএনপির মনোনয়নপত্র পাওয়ার দাবি করছেন। ফলে দুই পক্ষের কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে শুরু হয়েছে তীব্র সমালোচনা ও আলোচনার ঝড়।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, যশোরের ছয়টি সংসদীয় আসনের মধ্যে তিনটিতে বিএনপির প্রার্থী পরিবর্তনের গুঞ্জনের পর নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে যশোর-৪ আসন। বাঘারপাড়া, অভয়নগর ও বসুন্দিয়া ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত এ আসনে ধানের শীষ প্রতীকের মনোনয়ন নিয়ে নানা জল্পনা-কল্পনা তৈরি হয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন মাধ্যমে প্রচার করা হচ্ছে—যশোর-৪ আসনে বিএনপির চূড়ান্ত মনোনয়ন পেয়েছেন ফারাজী মতিয়ার রহমান। তবে এই দাবি সরাসরি অস্বীকার করেছেন ইঞ্জিনিয়ার টিএস আইয়ুবের সমর্থকরা। তাদের দাবি, বিএনপির একমাত্র মনোনয়নপ্রাপ্ত প্রার্থী টিএস আইয়ুবই। অপরদিকে, ফারাজী মতিয়ার রহমানের সমর্থকরাও দৃঢ়ভাবে দাবি করছেন—তারাই প্রকৃত মনোনয়নপত্র হাতে পেয়েছেন। ফলে একই আসনে দুই প্রার্থীর মনোনয়ন দাবিকে কেন্দ্র করে রাজনীতিতে সৃষ্টি হয়েছে স্পষ্ট ধোঁয়াশা।
দলের দায়িত্বশীল একটি সূত্রের বরাত দিয়ে জানা গেছে, প্রাথমিকভাবে যশোর-৪ আসনে ইঞ্জিনিয়ার টিএস আইয়ুবকেই মনোনয়ন দেওয়া হয়েছিল। তবে তার বিরুদ্ধে ঋণখেলাপি সংক্রান্ত আইনি জটিলতার বিষয়টি বিবেচনায় রেখে বিকল্প প্রস্তুতি হিসেবে ফারাজী মতিয়ার রহমানের নামও তালিকায় রাখা হয়েছে। যাতে কোনো প্রার্থী আইনি কারণে অযোগ্য হলে দল যেন সংকটে না পড়ে।
এই ‘দ্বৈত মনোনয়ন কৌশল’কে ঘিরে যশোর-৪ আসনে বিএনপির রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে। শেষ পর্যন্ত কে হচ্ছেন বিএনপির চূড়ান্ত প্রার্থী—তা জানতে কর্মী-সমর্থকদের আরও কিছুদিন অপেক্ষা করতেই হচ্ছে।
প্রকাশক ও সম্পাদক
মোঃ শাহিন হোসেন
www.dainikabhaynagar.com