তিন পার্বত্য জেলা বান্দরবান, রাঙ্গামাটি ও খাগড়াছড়িতে তিনটি আর্মড পুলিশ মাউন্টেন ব্যাটালিয়ন ও একটি সদর দপ্তর স্থাপনের প্রস্তাব করা হয়েছে। এ–সংক্রান্ত প্রকল্প প্রস্তাব বুধবার (২৪ ডিসেম্বর) পরিকল্পনা কমিশনের ভৌত অবকাঠামো বিভাগের প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটির (পিইসি) সভায় উপস্থাপন করা হবে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের নেওয়া এই প্রকল্প বাস্তবায়নের সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছে ৬৬৮ কোটি ৪৪ লাখ টাকা।
পুলিশ জানায়, চলতি বছরের জুলাই থেকে প্রকল্পটি শুরু করে ২০২৮ সালের জুনে শেষ করার পরিকল্পনা রয়েছে। এশিয়ান উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) প্রকল্পটিতে আর্থিক সহায়তা দেবে। ২০২৫–২৬ অর্থবছরের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) অননুমোদিত নতুন প্রকল্প তালিকায় এটি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
প্রকল্প প্রস্তাব অনুযায়ী, ২০২৫–২৬ অর্থবছরে ১৯১ কোটি ৬৪ লাখ টাকা, ২০২৬–২৭ অর্থবছরে ২৩৮ কোটি ১১ লাখ টাকা এবং ২০২৭–২৮ অর্থবছরে ২৩৮ কোটি ৪৪ লাখ টাকা ব্যয় করার কথা রয়েছে।
প্রকল্পের উদ্দেশ্যে বলা হয়েছে, পার্বত্য অঞ্চলের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন, অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে গতি আনতে নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা এবং একবিংশ শতাব্দীর চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় প্রযুক্তিনির্ভর, দক্ষ ও শারীরিকভাবে সক্ষম পুলিশ বাহিনী গড়ে তোলা।
প্রকল্পের পটভূমিতে উল্লেখ করা হয়েছে, পার্বত্য এলাকায় জেলা পুলিশের পাশাপাশি এলাকার ভূপ্রকৃতির উপযোগী বিশেষায়িত পুলিশ ফোর্স মোতায়েন জরুরি। এতে পাহাড়ি ও বাঙালি সম্প্রদায়ের মধ্যে বিরোধ কমবে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আরও উন্নত হবে বলে মত দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি শান্তিচুক্তির আলোকে সেনাবাহিনী প্রত্যাহারের পর আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে এই বাহিনী কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারবে বলেও উল্লেখ করা হয়।
প্রস্তাবনায় আরও বলা হয়েছে, বর্তমানে মামলা তদন্ত ও প্রশাসনিক কাজের কারণে থানা-পুলিশের বেশিরভাগ সদস্য ব্যস্ত থাকেন, ফলে সংঘবদ্ধ অপরাধ দমনে বাড়তি সক্ষমতা প্রয়োজন। তাই এপিবিএন সদস্যদের সহায়তা এবং নিরাপদ অবকাঠামো নির্মাণ অপরিহার্য।
প্রকল্পে ১৫৫টি পাহাড়ি উপযোগী যানবাহন কিনতে ১১২ কোটি টাকা, অনাবাসিক ভবন নির্মাণে ৯৪ কোটি টাকা, আবাসিক ভবন নির্মাণে ৩০৮ কোটি টাকা এবং অন্যান্য অবকাঠামো নির্মাণে ৮৩ কোটি ৬২ লাখ টাকা ব্যয় ধরা হয়েছে।
পরিকল্পনা কমিশনের মতামতে বলা হয়েছে, প্রকল্প বাস্তবায়নের যৌক্তিকতা, প্রয়োজনীয়তা ও সম্ভাব্যতা যাচাই করতে সংশ্লিষ্ট সংস্থার মতামত নেওয়া প্রয়োজন। পাশাপাশি পরিবেশের ওপর কোনো বিরূপ প্রভাব পড়ে কিনা তাও মূল্যায়নের সুপারিশ করা হয়েছে।
প্রকাশক ও সম্পাদক
মোঃ শাহিন হোসেন
www.dainikabhaynagar.com