
হাফিজুর রহমান কালিগঞ্জ সাতক্ষীরা প্রতিনিধিঃ
অনুমোদনহীন ক্লিনিক এবং ডায়াগনস্টিক সেন্টারে আকস্মিক অভিযান চালিয়ে লাইভ কেয়ার হাসপাতাল এন্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার, নলতা ডায়াবেটিক জেনারেল হাসপাতাল এন্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার এবং নলতা হাসপাতালের ডায়াগনস্টিক সেন্টার সহ এই ৩ টি ডায়াগনস্টিক সেন্টারের কার্যক্রম সিলগালা করে দেওয়া হয়েছে। সাতক্ষীরার জেলা সিভিল সার্জন ডাঃ আব্দুস সালাম বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) বেলা ১১ টার দিকে কালীগঞ্জে আকস্মিক অভিযান চালিয়ে এই ৩ টি হাসপাতালের ডায়াগনস্টিক সেন্টার বন্ধ ও সিলগালা করে দিয়েছেন। উপজেলা জুড়ে ১৬ টি ক্লিনিক এন্ড হাসপাতাল এবং ১৭ টি ডায়গনস্টিক সেন্টার রয়েছে। উপজেলা জুড়ে বেসরকারি ক্লিনিক এন্ড হাসপাতাল ডায়াগনস্টিক সেন্টারে কোনোটির নেই স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী অনুমোদন। নেই নীতিমালা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ক্লিনিক এন্ড হাসপাতালের চিকিৎসক, নার্স, প্যাথলজিস্ট না থাকায় বেশিরভাগ সময় ওয়ার্ড বয় দিয়ে দায়সারা ভাবে কাজ করানো হয়। প্রসূতি বা কোন গর্ভবতীকে ভর্তি করে সিজার অপারেশনের জন্য বাইরে থেকে চিকিৎসক ভাড়া করে এনে মোট অংকের চুক্তি ভিত্তিক গলাকাটা ফিস নিয়ে অপারেশন সেরে চলে যায়। ফলে স্বাস্থ্যসেবা নিতে আসা রোগীরা বাহিরে টানানো সাইন বোর্ডের ডাক্তারদের চটকদার বিজ্ঞাপনে নানান বিড়ম্বনা, প্রতারণার শিকার হয়ে অনেক রোগীকে লাশ হয়ে বাড়িতে ফিরতে দেখা গেছে। এই ভাবে জেলা সিভিল সার্জন অফিসকে মোটা অংকের টাকা মাসোহারা দিয়ে ক্লিনিক মালিকরা বহাল তবিয়াদে অবৈধ কার্যক্রম চালিয়ে গেলেও দেখার কেউ থাকেনা। মাঝেমধ্যে ২/১টি লোক দেখানো অভিযান পরিচালনা করলেও পুরা বছর জুড়ে চলে অবৈধ কার্যক্রমের মহাউৎসব। ফজলুর রহমান নামে এক রোগী পেট ব্যাথা নিয়ে কালীগঞ্জে ডাঃ হযরত আলী ডিজিটাল ল্যাব এন্ড হাসপাতালে ভর্তি হয়। বিভিন্ন পরীক্ষার নিরীক্ষার নামে দেড় লক্ষাধিক টাকা হাতিয়ে নিয়ে ক্লিনিক মালিক সিরাজুল ইসলাম অ্যাপেন্ডিসাইড অপারেশন করে। পরে ইনফেকশনে রোগী ছটফট করতে থাকলে আবারো পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে তার জরায়ুতে ক্যান্সার হয়েছে বলে ভুয়া রিপোর্ট দেয়। উক্ত ভুয়া রিপোর্টের প্রেক্ষিতে গত ২০ অক্টোবর রাত ৮ টার দিকে তৎকালীন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অনুজা মন্ডল এবং তৎকালীন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কর্মকর্তা ডাঃ বুলবুল কবিরকে সাথে নিয়ে ভ্রাম্যমান আদালতের মাধ্যমে ২ লক্ষ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়। ঐ সময় তাৎক্ষণিক উপস্থিত সাংবাদিকদের উপজেলা জুড়ে অবৈধ ক্লিনিক, হাসপাতাল, ডায়াগনস্টিক সেন্টারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থার কথা জানালেও আজও পর্যন্ত এ কার্যক্রম আলোর মুখ দেখেনি । অভিযানে সিভিল সার্জন ডাঃ আব্দুস সালাম সাংবাদিকদের জানান স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নীতিমালায় বলা হয়েছে প্রাইভেট হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার নিবন্ধন আইন ২০১০ মোতাবেক ৪ ধারায় বলা হয়েছে নিবন্ধন ও অনুমোদন ছাড়া কোন বেসরকারি হাসপাতাল ক্লিনিক চালানো সম্পূর্ণ বেআইনি অবৈধ। ৬ ধারায় নিবন্ধন নবায়ন বাধ্যতামূলক। ১২ ধারায় অনুমোদনবিহীন হাসপাতাল ক্লিনিকের জরিমানা,
নিবন্ধন বাতিল, সীলগালা করার কথা বলা হয়েছে। ভুল চিকিৎসা, ভুয়া রিপোর্টে ১৮৬০ এর ৩০৪ ক ৪২০ ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন ২০০৯। পরিবেশ সংরক্ষণ আইন ১৯৯৫ ।মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন ২০১৮। ভ্যাট আইন ২০১২। আয়কর আইন। ২০২৩ অনুযায়ী শাস্তিযোগ্য অপরাধের কথা জানালেও অবৈধ ক্লিনিক পরিচালনার কোন সদুত্তর মেলেনি। অধিকাংশ ক্লিনিক ডায়াগনস্টিক সেন্টার গুলোর নিবন্ধন, পরিবেশ, মাদকের ছাড়া পত্র ছাড়া কোন রকমে একটি ভবন ভাড়া করে কয়েকটি চেয়ার, টেবিল, খাট কিনে চলছে ক্লিনিক কার্যক্রম। সিভিল সার্জন অফিসের একজন কর্মচারী নিজের অপকর্ম ঢাকতে সারা বছর ধরে আপন ভাইকে কাগজ-কলমে মালিক সাজিয়ে নিজে ক্লিনিক পরিচালনা করলেও তার প্রতি নেই কোন আইনানুগ ব্যবস্থা। ওই ব্যক্তি বছরের পর বছর প্রশিক্ষণের নামে ঢাকায় অবস্থানের কথা থাকলেও নিজের ক্লিনিকেই কাটে বারোমাস। প্রতিটি বেসরকারি হাসপাতাল ক্লিনিক ডায়াগনস্টিক সেন্টার স্বাস্থ্য অধিদপ্তর মন্ত্রণালয়ের নীতিমালা আইন অনুযায়ী পরিচালনা করার জোর দাবি জানিয়েছে উপজেলা বাসী। যাতে করে রোগী হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়ে লাশ না হয়ে ফিরতে হয় এ ব্যাপারে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টার আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন উপজেলা বাসী।
প্রকাশক ও সম্পাদক
মোঃ শাহিন হোসেন
www.dainikabhaynagar.com