সাতক্ষীরার তালা উপজেলার ঘোনা পল্লীমঙ্গল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের এক ধর্ম বিষয়ক শিক্ষকের আপত্তিকর ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়ে পড়েছে। ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর শিক্ষক সমাজসহ এলাকাজুড়ে চরম ক্ষোভ ও নিন্দার ঝড় উঠেছে। সচেতন মহল বলছে, এমন ঘটনা শিক্ষাঙ্গনের নৈতিক ভিত্তিকে মারাত্মকভাবে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে।
বৃহস্পতিবার (২৫ ডিসেম্বর) রাতে ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ পায়। মুহূর্তের মধ্যেই তা ভাইরাল হয়ে পড়ে এবং দিনভর চলে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা। স্থানীয়দের অভিযোগ, ভিডিওতে থাকা ব্যক্তি তালা ঘোনা পল্লীমঙ্গল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ধর্ম বিষয়ক শিক্ষক মোঃ মফিদুল ইসলাম।
স্থানীয় অভিভাবক ও সচেতন নাগরিকরা বলেন, “শিক্ষক হলেন মানুষ গড়ার কারিগর। সেই শিক্ষক যদি এমন নৈতিকভাবে জঘন্য কাজে জড়িত হন, তাহলে আমাদের সন্তানরা তাদের কাছ থেকে কী শিখবে? এমন ব্যক্তি শিক্ষকতা পেশায় থাকার ন্যূনতম যোগ্যতাও হারিয়েছেন।” তারা অভিযুক্ত শিক্ষককে অবিলম্বে অপসারণ ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক শিক্ষক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “ঘটনাটি সত্য হলে এটি পুরো শিক্ষক সমাজের জন্য লজ্জাজনক। এমন অনৈতিক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা না নিলে ভবিষ্যতে এর পুনরাবৃত্তি ঘটবে।”
এদিকে অভিযোগের বিষয়ে ধর্ম বিষয়ক শিক্ষক মোঃ মফিদুল ইসলাম দাবি করেন, তার বিরুদ্ধে পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে। তিনি বলেন, “একটি চক্র আমাকে ব্ল্যাকমেইল করে টাকা দাবি করছিল। টাকা না দেওয়ায় তারা এসব মিথ্যা প্রচার চালাচ্ছে। আমি এ বিষয়ে থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছি।”
তবে বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মোশাররফ হোসেনের বক্তব্য নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। তিনি বলেন, “এটা আমার স্কুলকেন্দ্রিক বিষয় না। এসব নিয়ে কথা বললে আমাকে ভয়ভীতি দেখানো হয়। আপনারা যা ভালো মনে করেন করেন।” তার এমন মন্তব্য দায়িত্বজ্ঞানহীন ও উদ্বেগজনক বলে মনে করছেন অভিভাবকরা।
এ বিষয়ে তালা উপজেলা নির্বাহী অফিসার তারেক হাসান বলেন, “একজন শিক্ষকের দ্বারা এমন ঘৃণিত কাজ অত্যন্ত বেদনাদায়ক। বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করা হবে। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দিলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
সাতক্ষীরা জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মোঃ আবুল খায়ের বলেন, “শিক্ষকরা সমাজ গঠনের মূল স্তম্ভ। একজন শিক্ষকের কাছ থেকে এমন আচরণ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। প্রমাণ সাপেক্ষে তদন্ত করে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
এই ঘটনায় দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে সত্য উদঘাটন এবং দোষী প্রমাণিত হলে অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার জোর দাবি জানিয়েছে এলাকাবাসী।