প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ.এ.ম. নাসির উদ্দিনের সঙ্গে বৈঠক করেছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। পূর্বনির্ধারিত সূচি অনুযায়ী মঙ্গলবার বিকাল ৪টায় নির্বাচন ভবনে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ঘন্টাব্যাপী বৈঠকে আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড, গণভোটের আলোচনা, তুচ্ছ কারণে মনোনয়ন বাতিল, প্রশাসনের আচরণ ও সামগ্রিক নির্বাচনী পরিবেশ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিং করেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের যুগ্ম মহাসচিব ও দলের মুখপাত্র মাওলানা গাজী আতাউর রহমান। তিনি বলেন, খুব ছোট ও তুচ্ছ কারণে বহু প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে, যা প্রার্থীদের হয়রানি ও সামাজিকভাবে হেয় করার শামিল। মাত্র এক হাজার টাকার নিচে বিল বকেয়া থাকা, অ্যাকাউন্ট খোলার তারিখ না থাকা বা সামান্য clerical mistake-এর কারণে প্রার্থিতা বাতিল হওয়া কোনোভাবেই যৌক্তিক নয়। অথচ কারও ক্ষেত্রে ছাড় দেওয়া হয়েছে, আবার কারও মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে—এতে বৈষম্যের অভিযোগ উঠেছে।
তিনি বলেন, মৌলিক অপরাধ যেমন ঋণখেলাপি, মামলার তথ্য গোপন বা সম্পদের তথ্য গোপন থাকলে প্রার্থিতা বাতিল করা যেতে পারে। কিন্তু সামান্য কারণে বিপুল সংখ্যক প্রার্থী বাতিল হওয়ায় নির্বাচন পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
গণভোট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “নির্বাচনের সামগ্রিক আলোচনার মধ্য থেকে গণভোট বিষয়টি হারিয়ে গেছে। আমরা বারবার আশঙ্কার কথা বলেছিলাম, আজ তা সত্য প্রমাণিত হলো। সরকার ও নির্বাচন কমিশনের এখনই গণভোট ইস্যুটি আলোচনায় আনা এবং এর পক্ষে জনমত তৈরির উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।”
তিনি আরও বলেন, লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড দিনদিন ভারসাম্য হারাচ্ছে। কোথাও কোথাও এক শ্রেণির প্রার্থী বিশেষ সুবিধা পাচ্ছেন, ভিআইপি প্রোটোকল পাচ্ছেন। অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার ও লুটপাট দমনে তেমন উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না। তাছাড়া বিভ্রান্তিকর জরিপ প্রকাশ করে জনমতকে প্রভাবিত করার চেষ্টা চলছে—যা নির্বাচনের ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলতে পারে। তাই এসব জরিপের ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশনকে সক্রিয় হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুকে কেন্দ্র করে প্রশাসনের অতিরিক্ত মনোযোগ নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন ইসলামী আন্দোলনের মুখপাত্র। তিনি বলেন, “আমরাও শোকাহত। কিন্তু বিষয়টি অতিমাত্রায় রাজনৈতিকভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে এবং প্রশাসন একদিকে ঝুঁকে পড়েছে। এতে একপক্ষীয় নির্বাচনের ঝুঁকি বাড়ছে।”
এছাড়া চলমান এগারো দলীয় সমঝোতা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আলোচনা চলছে, পারস্পরিক বোঝাপড়া ভালো রয়েছে এবং সমঝোতা রক্ষায় সবাই আন্তরিক।
বৈঠকে নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে উপস্থিত ছিলেন সিইসি এ.এ.ম. নাসির উদ্দিন, কমিশনার আনোয়ারুল ইসলাম ও ইসি সচিব আখতার আহমেদ। ইসলামী আন্দোলনের প্রতিনিধি দলে ছিলেন যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা গাজী আতাউর রহমান, হাফেজ মাওলানা শেখ ফজলে বারী মাসউদ, মাওলানা লোকমান হোসেন জাফরি, অ্যাডভোকেট শওকত আলী হাওলাদার, হাফেজ সিদ্দিকুর রহমান ও ছাত্রনেতা ইমরান হোসাইন নূর।
প্রকাশক ও সম্পাদক
মোঃ শাহিন হোসেন
www.dainikabhaynagar.com