নিজস্ব প্রতিবেদক, মনিরামপুর (যশোর): যশোরের মনিরামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি এক রোগীর চিকিৎসায় ভুল ইনফিউশন দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এতে রোগীর শারীরিক অবস্থা আরও খারাপ হয়েছে বলে পরিবার অভিযোগ করেছে।
মনিরামপুর পৌর শহরের দুর্গাপুর গ্রামের মৃত সাকাওয়াত হোসেনের ছেলে মো. সেলিম হোসেনকে ৬ নভেম্বর হাসপাতাল ভর্তি করা হয়। ওইদিন রাতে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে Prosol 500 ml সহ কয়েকটি ওষুধ লিখে দেন। হাসপাতালের ফার্মেসিতে ঔষধ না থাকায় রোগীর স্বজনরা হাসপাতাল গেটের পাশে থাকা “তানভীর ড্রাগ হাউজ” থেকে ঔষুধ ক্রয় করতে যান। দোকানে Prosol 500 ml না থাকায় মালিক Clinosol vit 500 ml ধরিয়ে দেন।
স্বজনরা জানান, ওই ঔষধ দিয়ে ইনফিউশন শুরু হলে রোগীর অবস্থা দ্রুত খারাপ হতে থাকে। নার্স সঙ্গে সঙ্গেই ইনফিউশন বন্ধ করেন। আব্দুল সাত্তার অভিযোগ, “ডাক্তার যে ওষুধ লিখেছেন, দোকানদার সেটা না দিয়ে অন্য ওষুধ দিয়েছেন। এরপর থেকেই রোগীর অবস্থা খারাপ হতে থাকে।” নার্সের ভাষ্য, “Prosol এবং Clinosol vit আলাদা ওষুধ। ডাক্তার Prosol লিখেছিলেন, কিন্তু দোকান থেকে Clinosol vit আনা হয়। অল্প পরিমাণ ইনফিউশন দেওয়া হলেও রোগীর অবনতির লক্ষণ দেখা গেছে, আমরা বিষয়টি বুঝে সঙ্গে সঙ্গে ইনফিউশন বন্ধ করেছি।”
অভিযুক্ত ফার্মেসি তানভীর ড্রাগ হাউজের মালিক মো. সোহাগ হোসেন দাবি করেন, “Prosol 500 ml ও Clinosol vit 500 ml একই ধরনের ঔষধ। বিক্রয়ের সময় রোগীর স্বজনকে বিষয়টি জানিয়েছি।”
তবে চিকিৎসক সূত্রে জানা গেছে, দুই ইনফিউশনের উপাদান ও ব্যবহার এক নয়। Prosol 500 ml সাধারণ স্যালাইন বা ইলেকট্রোলাইট ইনফিউশন; শরীরে তরল যোগ, ইলেকট্রোলাইটের ভারসাম্য বজায় রাখা ও ঔষধ পরিবহণের মাধ্যম হিসেবে ব্যবহৃত হয়। Clinosol vit 500 ml ভিটামিন সমৃদ্ধ ইনফিউশন; পুষ্টি যোগ, শারীরিক দুর্বলতা, রক্তের অভাব বা অ্যালার্জি প্রতিরোধে ব্যবহৃত হয়।
এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে বিরক্তি ও ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।
প্রকাশক ও সম্পাদক
মোঃ শাহিন হোসেন
www.dainikabhaynagar.com