প্রিন্ট এর তারিখঃ মার্চ ৬, ২০২৬, ১০:৩৬ এ.এম || প্রকাশের তারিখঃ জানুয়ারী ৭, ২০২৬, ৮:১১ পি.এম
প্রেমের টানে ভারত থেকে খুলনায়; মানবিক দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার

প্রেমের সম্পর্কে যুক্ত হতে গিয়ে সীমান্ত অতিক্রম করে ভারত থেকে বাংলাদেশে আসেন মধ্যপ্রদেশের ভূপালের বাসিন্দা মুসলিম পরিবারের তরুণী ফারিন আলী (২১)। অবৈধভাবে প্রবেশের অভিযোগে তাকে আটক করলেও শেষ পর্যন্ত মানবিক বিবেচনায় বিষয়টি আইনের আওতার মধ্যেই করণীয় সমাধানের উদ্যোগ নিয়েছেন খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার মোহাম্মদ জাহিদুল হাসান, বিপিএম (সেবা)।
ঘটনাটি ঘটে সম্প্রতি। জানা যায়, ছয় বছর আগে মোবাইল ফোনে পরিচয় হয় খুলনার দৌলতপুর এলাকার তরুণ তাসিনের সাথে ফারিন আলীর। সময়ের সাথে সম্পর্ক গভীর হয়। কিন্তু ফারিনের কাছে ছিল না কোনো বৈধ পাসপোর্ট বা ট্রাভেল ডকুমেন্ট। এরপরও প্রায় ১৬০০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে মধ্যপ্রদেশ থেকে আসাম হয়ে সীমান্ত অতিক্রম করে সিলেট এবং সেখান থেকে খুলনায় পৌঁছান তিনি। পরে দুজন বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন।
এরই মধ্যে ৯৯৯–এ কল পেয়ে দৌলতপুর থানা পুলিশ অবৈধ অনুপ্রবেশের অভিযোগে ফারিনকে আটক করে থানায় নিয়ে আসে।
এই অবস্থায় ৫ জানুয়ারি রাতে দৌলতপুর থানায় আকস্মিক পরিদর্শনে গিয়ে কমিশনার মহোদয় নারী হাজতে থাকা ফারিনকে দেখতে পান। তার সাথে কথা বলে পুরো ঘটনা জানার পর বিষয়টি মানবিক ও আইনি উভয় দিক বিবেচনায় তিনি উদ্যোগ নেন।
তিনি সংশ্লিষ্ট আইনজীবী, বাংলাদেশ পুলিশের বিশেষ শাখা (এসবি), ইমিগ্রেশন পুলিশ এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সাথে তাৎক্ষণিক যোগাযোগ করেন। পরবর্তীতে কমিশনারের দিকনির্দেশনায় ফারিনকে ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারে পাঠানো হয়, যাতে তিনি নিরাপদ ও সুরক্ষিত পরিবেশে থাকতে পারেন এবং আইনি প্রক্রিয়া সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করা যায়।
পরবর্তীতে আদালতের মাধ্যমে এ ঘটনার আইনগত নিষ্পত্তি হবে বলে পুলিশ জানায়।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর এমন মানবিক উদ্যোগ স্থানীয়ভাবে প্রশংসিত হয়েছে। তবে একই সঙ্গে পুলিশ জানিয়েছে—
আইন, নীতিমালা ও রাষ্ট্রীয় স্বার্থ অক্ষুণ্ন রেখে মানবতার দৃষ্টিকোণ থেকেও বিষয়টির যথাযথ সমাধান নিশ্চিত করা হবে।
প্রকাশক ও সম্পাদক
মোঃ শাহিন হোসেন
www.dainikabhaynagar.com