পরিবেশগত বৈশ্বিক ঐতিহ্য, পর্যটন সম্ভাবনা ও অর্থনৈতিক গুরুত্ব বিবেচনায় সাতক্ষীরা জেলাকে ‘বি’ ক্যাটাগরির জেলা থেকে ‘এ’ ক্যাটাগরির জেলায় উন্নীত করার প্রস্তাব অনুমোদন করেছে সরকার। প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস সংক্রান্ত জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটির (নিকার) সভায় এ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
সোমবার (২০ জানুয়ারি) প্রধান উপদেষ্টার সভাপতিত্বে তার সরকারি বাসভবন যমুনায় নিকারের ১১৯তম সভা অনুষ্ঠিত হয়। এটি অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদে নিকারের প্রথম সভা।
সভায় অর্থ উপদেষ্টা, আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক উপদেষ্টাসহ সরকারের ছয়জন উপদেষ্টা উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া মন্ত্রিপরিষদ সচিব ও মুখ্য সচিবসহ সরকারের ১৪ জন সচিব ও সিনিয়র সচিব সভায় অংশ নেন। এ সভায় প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস সংক্রান্ত মোট ১১টি প্রস্তাব অনুমোদিত হয়।
সভায় গৃহীত গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তগুলোর মধ্যে রয়েছে—
গাজীপুরের পূর্বাচল উত্তর, নারায়ণগঞ্জের পূর্বাচল দক্ষিণ এবং কক্সবাজারের মাতারবাড়ী নামে তিনটি নতুন থানা স্থাপনের প্রস্তাব অনুমোদন।
এছাড়া নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলাকে বিভক্ত করে আরও একটি নতুন থানা স্থাপনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
সরকারের রাজস্ব আহরণ ব্যবস্থাপনাকে আরও স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক ও গতিশীল করার লক্ষ্যে অর্থ মন্ত্রণালয়ের আওতায় ‘রাজস্ব নীতি বিভাগ’ এবং ‘রাজস্ব ব্যবস্থাপনা বিভাগ’ নামে দুটি পৃথক প্রশাসনিক বিভাগ গঠনের প্রস্তাব অনুমোদিত হয়েছে। এ বিষয়ে ইতোমধ্যে ‘রাজস্ব নীতি ও রাজস্ব ব্যবস্থাপনা অধ্যাদেশ, ২০২৫’ জারি করা হয়েছে।
এছাড়া ‘স্বাস্থ্য সেবা বিভাগ’ ও ‘স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগ’ একীভূত করে নতুন করে ‘স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়’ পুনর্গঠনের প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়।
মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের নাম পরিবর্তন করে ‘নারী ও শিশু মন্ত্রণালয়’ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে মন্ত্রণালয়ের ইংরেজি নাম Ministry of Women and Children Affairs (MoWCA) অপরিবর্তিত থাকবে।
সাতক্ষীরার জন্য ঐতিহাসিক স্বীকৃতি
নিকার সভায় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও তাৎপর্যপূর্ণ সিদ্ধান্তগুলোর একটি হলো—
পরিবেশগত বৈশ্বিক ঐতিহ্য (সুন্দরবন সংলগ্ন জেলা), পর্যটন সম্ভাবনা, ভৌগোলিক গুরুত্ব এবং ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক কার্যক্রম বিবেচনায় সাতক্ষীরা জেলাকে ‘বি’ ক্যাটাগরির জেলা থেকে ‘এ’ ক্যাটাগরির জেলায় উন্নীত করার প্রস্তাব অনুমোদন।
সরকারি সূত্রে জানা গেছে, এই উন্নীতকরণের ফলে সাতক্ষীরায় প্রশাসনিক সুযোগ-সুবিধা, উন্নয়ন বরাদ্দ, জনবল কাঠামো ও অবকাঠামো উন্নয়নে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। এতে জেলার সার্বিক উন্নয়ন কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করেছেন।
প্রকাশক ও সম্পাদক
মোঃ শাহিন হোসেন
www.dainikabhaynagar.com