August 19, 2026, 1:22 pm
শিরোনাম :
পর্নোগ্রাফিক কনটেন্ট বিক্রির অভিযোগে ইনস্টাগ্রাম ইনফ্লুয়েন্সার গ্রেপ্তার স্কুলশিক্ষিকার রহস্যজনক মৃত্যু, বাসা থেকে মরদেহ উদ্ধার মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশি হামলার প্রতিবাদ খেলাফত মজলিসের কলকাতায় আগুনে কুষ্টিয়ার সাংবাদিক ও তার স্ত্রী-সন্তান-শ্বশুরের মৃত্যু প্রতিবন্ধী কিশোরীকে ধর্ষণের দায়ে আপন ফুফাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড স্বামীর মৃত্যুতে ১২ ঘণ্টার প্যারোলে মুক্তি পাচ্ছেন দিপু মনি হলফনামায় তথ্য গোপনের অভিযোগ, হান্নান মাসউদের এমপি পদ বাতিলে হাইকোর্টে রিট কার্ড দেওয়ার নামে টাকা নেওয়ার পর যোগাযোগ বন্ধ, ‘দুর্নীতির তালাশ টিমের’ বিরুদ্ধে অভিযোগ বিতর্কিত স্টিমারঘাট ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই ক্লোজড পরিত্যক্ত গ্যারেজে মর্গের কাজ, মেঝেতেই পড়ে থাকে মরদেহ

সরকারের ছয় মাসে প্রশাসনে দলীয়করণ নাকি পেশাদারিত্ব?

মোঃ ইসমাইল হোসেন

বিএনপি সরকারের ক্ষমতার ছয় মাসে প্রশাসনে কতটা শৃঙ্খলা ফিরেছে, দলীয়করণ কতটা কমেছে এবং যোগ্য ও পেশাদার কর্মকর্তারা কতটা মূল্যায়ন পাচ্ছেন—এসব প্রশ্ন নিয়ে আলোচনা চলছে। গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর প্রশাসনে দলীয়করণ কমিয়ে দক্ষতা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে নিয়োগ-পদোন্নতির প্রত্যাশা তৈরি হলেও বর্তমান সরকারের বিভিন্ন সিদ্ধান্ত ঘিরে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।
সাবেক সচিব একেএম আবদুল আউয়াল মজুমদার বলেন, গত ২০ থেকে ২৫ বছরে আমলাতন্ত্র আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও জামায়াত—এই তিনটি ধারায় বিভক্ত হয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন অধ্যয়ন বিভাগের অধ্যাপক কাজী মারুফুল ইসলাম মনে করেন, দলীয় বিবেচনায় নিয়োগের কারণে ঐতিহাসিকভাবে রাষ্ট্র ভেতর থেকে দুর্বল হয়ে পড়ে। তার মতে, যে দলই ক্ষমতায় আসে, তারা নিজেদের সমর্থক কর্মকর্তা-কর্মচারী খোঁজার চেষ্টা করে। তবে এ কৌশলে শেষ পর্যন্ত দল বা সরকারের কোনো লাভ হয় না। আওয়ামী লীগ আমলে প্রশাসনে ব্যাপক দলীয়করণের অভিযোগের পর অন্তর্বর্তী সরকার জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশন গঠন করলেও নিয়োগ ও পদোন্নতিতে দক্ষতা ও যোগ্যতার গুরুত্ব দেওয়ার সুপারিশ পুরোপুরি বাস্তবায়িত হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে। দীর্ঘদিন অবসরে থাকা বিএনপি ও জামায়াতঘনিষ্ঠ কয়েকজন কর্মকর্তাকে ফিরিয়ে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়ার ঘটনাও তখন আলোচনায় আসে।
বর্তমানে সচিব ও সচিব পদমর্যাদার ৭৯ জনের মধ্যে ২৩ জন চুক্তিভিত্তিক এবং তাদের রাজনৈতিক মতাদর্শ নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। অন্যদিকে ভিন্ন মতাদর্শের কারণে জ্যেষ্ঠ সচিব, সচিব ও অতিরিক্ত সচিব পর্যায়ের ৭০-এর বেশি কর্মকর্তা ওএসডি হয়ে কর্মহীন রয়েছেন বলেও উল্লেখ করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর মুখপাত্র মাহদী আমিন বলেন, যারা ফ্যাসিবাদী সরকারের সময় জনগণের অধিকার লঙ্ঘনে ভূমিকা রেখেছেন, তাদের ছাঁটাই করা হবে—এটাই জনগণের আকাঙ্ক্ষা। তবে সাবেক সচিব আবদুল আউয়াল মজুমদারের মতে, আগের আমলে বঞ্চিতদের মধ্যে যারা যোগ্য, তাদের পাশাপাশি পূর্ববর্তী সরকারের সময় ভালো কাজ করা কর্মকর্তাদেরও কাজে লাগানো উচিত। সম্প্রতি ১২টি অধিদপ্তর ও করপোরেশনে দলীয় পদধারীদের নিয়োগ নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। জনপ্রশাসন বিশেষজ্ঞদের মতে, রাজনৈতিক পরিচয় নয়, মূল সংকট অদক্ষতা, অনিয়ম ও স্বচ্ছতার ঘাটতিতে। তারা বলছেন, দক্ষতা, সততা ও পেশাদারিত্ব নিশ্চিত করা গেলে নিয়োগ নিয়ে সমস্যা কমবে। প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের পক্ষ থেকে অবশ্য দাবি করা হয়েছে, প্রশাসন আগের তুলনায় নিরপেক্ষভাবে কাজ করছে এবং সেবা প্রদানে দলীয় দৃষ্টিভঙ্গিকে প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে না।



ফেসবুক কর্নার