August 15, 2026, 5:57 pm
শিরোনাম :
কন্যা সন্তানের মা হলেন অভিনেত্রী পূজা পুরুষ প্রমাণিত হওয়ায় আজীবন নিষিদ্ধ দুই নারী অ্যাথলেট, বাতিল সব পদক প্রধানমন্ত্রীর ‘চ্যালেঞ্জ’ গ্রহণ করে চার পরিকল্পনা তুলে ধরলেন হাসনাত আবদুল্লাহ বিভ্রান্তির রাজনীতি ছেড়ে দেশ গঠনে এগিয়ে আসুন: প্রধানমন্ত্রী রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনে মিয়ানমার সরকারের বড় ঘোষণা নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নফাঁস: সাবেক আরএমওর বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা ইয়াবাসহ চিহ্নিত মাদক কারবারি জলিলসহ আটক ৪ ভ্রাম্যমাণ বইমেলার উদ্বোধন, পাঠাভ্যাস গড়তে নানা আয়োজন অনলাইনে আবেদনেই শিক্ষকদের অবসরের টাকা সরাসরি অ্যাকাউন্টে পৌঁছাবে: প্রধানমন্ত্রী রিজভী-আমানসহ বিএনপির স্থায়ী কমিটিতে যুক্ত হলেন ৪ নেতা

২৯ জুলাই, ২০২৪: লাল কাপড় বেঁধে প্রতিবাদ শুরু আন্দোলনকারীদের

মোঃ ইসমাইল হোসেন

ঘটনাবহুল ২৯ জুলাই আজ। চব্বিশে ফ্যাসিস্ট হটানো আন্দোলনের এ দিনটিতেই জামায়াত-শিবিরের রাজনীতি নিষিদ্ধের সিদ্ধান্ত। সেইসাথে  আন্দোলনকারীদের ওপর হামলা, গ্রেফতার, নির্যাতনে আরো বেপরোয়াপনা। বিপরীতে জাতীয় শোক পালন থেকে শুরু করে রাজপথে প্রতিবাদ কর্মসূচিতে দিনভর উত্তেজনা। ডিবি কার্যালয়ে সমন্বয়কদের ধরে নিয়ে ভাত খাওয়ানোকে হাইকোর্টের ‘জাতিকে নিয়ে মশকরা’ বলে সম্বোধন এবং  আন্দোলন দমনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অতিরিক্ত বল প্রয়োগে জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের উদ্বেগও এ দিনেই।
কোটা সংস্কার আন্দোলনকে ঘিরে দেশজুড়ে তখন টানটান উত্তেজনা। দিনভর সংঘাত ও সহিংসতার পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নানা সিদ্ধান্ত ও কর্মসূচি সামনে আসে এদিন।

শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ১৪ দলের বৈঠকে জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের রাজনীতি নিষিদ্ধের সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়। রাজনৈতিক অঙ্গনে এ নিয়ে ব্যাপক আলোচনা ও প্রতিক্রিয়া।
অন্যদিকে, হামলা ও হয়রানির প্রতিবাদে আবারও রাজপথে নামে শিক্ষার্থীরা। বিভিন্ন জায়গায় তাদের ওপর পুলিশ ও ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীদের হামলা।

সহিংসতায় নিহতদের স্মরণে পরদিন সারাদেশে রাষ্ট্রীয় শোক পালনের ঘোষণা দেয় সরকার। পাশাপাশি কালো ব্যাজ ধারণের আহ্বান। তবে রাষ্ট্রীয় শোক প্রত্যাখ্যান করে আন্দোলনকারীরা। কালোর পরিবর্তে লাল কাপড় মুখে বেঁধে ছবি তুলে অনলাইনে প্রচারে নামে তারা। স্যোশাল মিডিয়ায় দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে সেই কর্মসূচি।

এদিন আন্দোলনকারীদের ওপর গুলি না চালানোর নির্দেশনা এবং পুলিশ হেফাজতে থাকা ছয় সমন্বয়কের মুক্তির দাবিতে হাইকোর্টে রিট করেন দুই আইনজীবী। একই সময়ে সমন্বয়কদের ডিবি কার্যালয়ে নিয়ে গিয়ে খাবার খাওয়ানোর ছবি প্রকাশের ঘটনার তীব্র প্রতিক্রিয়া। বিষয়টি নিয়ে মন্তব্য আসে উচ্চ আদালত থেকেও।
আন্দোলন দমনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে উদ্বেগ প্রকাশ করে জাতিসংঘ। এসব ঘটনার স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ তদন্তের আহ্বান জানানো হয়। অন্যদিকে, জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে প্রতিটি হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানান মানবাধিকারকর্মী, শিক্ষক, আইনজীবীসহ বিশিষ্ট নাগরিকরা।
২৯ জুলাইয়ের রাজপথের প্রতিরোধ, শিক্ষার্থীদের ঐক্য এবং ধারাবাহিক কর্মসূচি আন্দোলনের বিজয়ের পথকে আরো সুদৃঢ় করে। বিশ্লেষকদের মতে, জুলাইর এই দিনগুলোই ছিল শেষ পর্যন্ত গণঅভ্যুত্থানের বিজয়ের সুতিকাগার।



ফেসবুক কর্নার