August 15, 2026, 2:35 pm
শিরোনাম :
রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনে মিয়ানমার সরকারের বড় ঘোষণা নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নফাঁস: সাবেক আরএমওর বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা ইয়াবাসহ চিহ্নিত মাদক কারবারি জলিলসহ আটক ৪ ভ্রাম্যমাণ বইমেলার উদ্বোধন, পাঠাভ্যাস গড়তে নানা আয়োজন অনলাইনে আবেদনেই শিক্ষকদের অবসরের টাকা সরাসরি অ্যাকাউন্টে পৌঁছাবে: প্রধানমন্ত্রী রিজভী-আমানসহ বিএনপির স্থায়ী কমিটিতে যুক্ত হলেন ৪ নেতা আঠারো চূড়া বিলে ক্যাফে উদ্বোধন ঘিরে বিশৃঙ্খলা, তরুণকে আটকের অভিযোগ গ্যাস সংকটে সিএনজি ফিলিং স্টেশনে ভোগান্তি বাড়ছে ৫ টাকার মিনি প্যাকে তথ্যহীন বেবি সুইটস চানাচুর, খাদ্যমান নিয়ে প্রশ্ন নিউরোসায়েন্সেস হাসপাতালে যুক্ত হচ্ছে আরও ৫০০ শয্যা, উদ্বোধন শনিবার

অসাধু সার-কিটনাশক ব্যাবসাীয়দের থেকে নেওয়া ভারতীয় বিষেই শেষহচ্ছে সুন্দরবনের প্রাণ প্রকৃতি

এইচ এম রতন বাগেরহাট প্রতিনিধি

এস এইচ রতন,বাগেরহাট ছবি, মেইলে
কৃষী অধিদপ্তরের অনুমতি নিয়ে অ-সাধু সারÑকিটনাশক ব্যাবসায়ীদের গোপনে অবৈধ ভাবে আনা ভারতীয় (কীটনাশক) বিষেই শেষ হতে চলেছে সুন্দরবনের প্রাণপ্রকৃতি। বিশ্ব ঐতিহ্য এলাকা ম্যানগ্রোভ এই বনে বিষ দিয়ে মাছ শিকার থামছেনা। এই বিশ প্রযোগে মাছ শিকার এখন ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। গত চার মাসে বিভিন্ন অভিযানে শুধু পূব সুন্দরবন বিভাগেই জেলে আটকসহ বিষের বোতল ও বিষ দিয়ে আহরণ করা বিপুল পরিমাণ মাছ জব্দ করা হয়েছে। এক শ্রেনীর অসাধু কিটনাশক ব্যাবসায়ীরা অবৈধ আসা উচ্চকার্র্য়করি ক্ষমতা সস্পন্ন ভারতীয় কিটনাশক জেলেদের কাছে বিক্রয় করে এই বিশদিয়ে মাছ আহরণের ফলে শেষ হয়ে যাচ্ছে সুন্দরবনের মৎস্য সম্প ডলফিনসহ জলজপ্রাণী.পাখি,বন্যপ্রাণী এবং চরমভাবে ধ্বংস হচ্ছে ম্যানগ্রোভ প্রজাতির গাছের শ^াষমূল। এমনটাই বলছেন,সুন্দরবন বিভাগ ও পরিবেশবাীিদরা।
বাগেরহাটের পূর্ব সুন্দরবন বিভাগের তথ্যমতে, তালিকাভুক্ত ৫ হাজার ৮০০ জেলে সুন্দরবনের শরণখোলা ও চাঁদপাই রেঞ্জের অনুমোদিত নদীখালে পাশ-পারমিট নিয়ে মাছ ও কাঁকড়া আহরণ করে থাকে। সুন্দরবনের নদীখালে বিষ দিয়ে মাছ আহরণ সস্পূর্ন নিষিদ্ধ হলেও দাদনের জালে আটকে থাকা অধিকাংশ জেলেরা লোকালয়ে তাদের মহাজন ও আড়তদারদের সরবরাহকৃত ভারতীয় বিষ খালের পানিতে ছড়িয়ে দিয়ে মাছ আহরণ করে থাকে। নিষিদ্ধ ভারতীয় (কীটনাশক) সহজলভ্য হওযায় ওই বিষ ব্যবহার করে সুন্দরবনে মাছ মারা হচ্ছে। মহাজন ও দাদনদারদের চাপেই দরিদ্র জেলেরা অনিচ্ছাসত্ত্বেও অধিক মাছ প্রাপ্তির আসায় বিষ দিয়ে মাছ ধরে। এতে করে শেষ হয়ে যাচ্ছে সুন্দরবনের মৎস্য সম্পদ। ডলফিনসহ জলজপ্রাণীসহ পাখি ও বন্যপ্রাণী ও ম্যানগ্রোভ প্রজাতির গাছ বেঁচে থাকা দায় হয়ে পড়েছে। গত জুন থেকে সেপ্টেম্বর এই চার মাসে পূর্ব সুন্দরবন বিভাগের শরণখোলা ও চাঁদপাই রেঞ্জে এলাকায় আড়াই শত অভিযানে ১৩২জন অপরাধীকে আটক করেছে বনরক্ষীরা। জেলেদের কাছ থেকে এসময় জব্দ করা হয়েছে ৪৫ বিষ ভর্তি বোতল, ৪ কেজি বিষ পাউডার (যার প্রায় প্রতিটিতেই মেড ইন ইন্ডিয়া লেখা), ৬৫৭ কেজি বিষযুক্ত মাছ। বিষ দিয়ে ধরা ২২ বস্তা শুটকি মাছ, ৩৭৫ কেজি কাঁকড়া, ২৪২টি ট্রলার ও নৌকা, প্রায় ২০ হাজার ফুট মাছ ধরা জাল।
মোংলার উপজেলার জয়মনি এলাকার রনজিৎ মন্ডল নামে এক জেলে জানান, সুন্দরবন সংলগ্ন গ্রামগুলোর বেশির ভাগ জেলে মহাজনের দাদনের জালে আটকানো। অনেক সময় বাধ্য হয়েই তারা বিষ দিয়ে মাছ শিকার করে। মহাজনরা বিভিন্ন ডিলারের কাছ থেকে ভারতীয় কিটনাশক এনে দেয়, কিছু খুলনা থেকেও আনা হয়। নিষেধাজ্ঞার সময় বেকার হয়ে পড়া বা ঋণে জর্জরিত জেলেরা পেটের দায়ে এই পথে নামতে বাধ্য হয়। বিষ দিয়ে ধরা মাছ বা চিংড়ি সরাসরি বাজারে আনা হয় না। বনেই গাছ কেটে মাচা বানিয়ে শুঁটকি তৈরি করা হয়। শুঁটকি শুকাতে সুন্দরীগাছের কাঠ ব্যবহার করা হয়, এতে শুঁটকির রং লালচে হয় এবং দামও বেশি পাওয়া যায়।
শরণখোলা উপজেলার গাবতলা গ্রামের জেলে আ. সাত্তার বলেন, প্রকৃত জেলেরা কখনোই সুন্দরবনে বিষ দিয়ে মাছ শিকার করে না। কিন্তু কিছু অসাধু জেলে খালগুলোতে বিষ দিয়ে মাছ ধরে। তাদের পেছনে থাকে মহাজনরা। মহাজনরা দাদন দিয়ে জেলেদের ফাঁদে ফেলে এবং নিজেরাই ভারতীয় কিটনাশক সরবরাহ করে। সুন্দরবনে বিষ দিয়ে মাছ ধরলে অনেক সময় আমাদের আটক হয়ে কারাগারে যেতে হয়। তবে, বিষ সরবরাহকারি মহাজনরা থেকে যায় ধরাছোয়ার বাইরে।



ফেসবুক কর্নার