August 15, 2026, 5:33 pm
শিরোনাম :
বিভ্রান্তির রাজনীতি ছেড়ে দেশ গঠনে এগিয়ে আসুন: প্রধানমন্ত্রী রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনে মিয়ানমার সরকারের বড় ঘোষণা নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নফাঁস: সাবেক আরএমওর বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা ইয়াবাসহ চিহ্নিত মাদক কারবারি জলিলসহ আটক ৪ ভ্রাম্যমাণ বইমেলার উদ্বোধন, পাঠাভ্যাস গড়তে নানা আয়োজন অনলাইনে আবেদনেই শিক্ষকদের অবসরের টাকা সরাসরি অ্যাকাউন্টে পৌঁছাবে: প্রধানমন্ত্রী রিজভী-আমানসহ বিএনপির স্থায়ী কমিটিতে যুক্ত হলেন ৪ নেতা আঠারো চূড়া বিলে ক্যাফে উদ্বোধন ঘিরে বিশৃঙ্খলা, তরুণকে আটকের অভিযোগ গ্যাস সংকটে সিএনজি ফিলিং স্টেশনে ভোগান্তি বাড়ছে ৫ টাকার মিনি প্যাকে তথ্যহীন বেবি সুইটস চানাচুর, খাদ্যমান নিয়ে প্রশ্ন

নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নফাঁস: সাবেক আরএমওর বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা

তানভীর আজাদ জাহিদ দৌলতপুর কুষ্টিয়া প্রতিনিধি

কুষ্টিয়া সিভিল সার্জন কার্যালয়ে ১১ থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারী নিয়োগে অনিয়ম ও প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের তৎকালীন আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. হোসেন ইমামের জড়িত থাকার প্রাথমিক সত্যতা পেয়েছে তদন্ত কমিটি। এ ঘটনায় তাঁর বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলাটি ১০/২০২৬ নম্বরে নথিভুক্ত হয়েছে।
সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা-২০১৮-এর ৩(খ) বিধি অনুযায়ী তাঁকে অসদাচরণের অভিযোগে অভিযুক্ত করা হয়েছে। একই সঙ্গে কেন তাঁকে চাকরি থেকে বরখাস্ত অথবা অন্য কোনো উপযুক্ত দণ্ড দেওয়া হবে না, সে বিষয়ে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। নোটিশ পাওয়ার পর ১০ কার্যদিবসের মধ্যে লিখিত জবাব দিতে বলা হয়েছে। স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের শৃঙ্খলা-১ শাখার সচিব কামরুজ্জামান চৌধুরী স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে এসব তথ্য জানা গেছে।
চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, কুষ্টিয়া সিভিল সার্জন কার্যালয়ের ১১ থেকে ২০তম গ্রেডের শূন্য পদে জনবল নিয়োগের লিখিত পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস করে অন্যায়ভাবে পরীক্ষা নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া যায়। তদন্তে ওই অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতাও পাওয়া গেছে। সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা অনুযায়ী এ ধরনের কর্মকাণ্ড অসদাচরণ হিসেবে গণ্য হওয়ায় ডা. হোসেন ইমামের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
জানা গেছে, ২০২৫ সালের ২৪ অক্টোবর কুষ্টিয়া সিভিল সার্জন কার্যালয়ের নিয়োগ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। পরীক্ষার দিন কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের তৎকালীন আরএমও ডা. হোসেন ইমামের ব্যক্তিগত বাসা থেকে কয়েকজন পরীক্ষার্থীকে বের হতে দেখা যায়। এরপর অভিযোগ ওঠে, অর্থের বিনিময়ে প্রশ্নপত্র ফাঁস করে তাঁর বাসায় কিছু পরীক্ষার্থীকে পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ করে দেওয়া হয়েছিল।
ঘটনাটি জানাজানি হলে কুষ্টিয়াজুড়ে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনা সৃষ্টি হয়। বিভিন্ন মহল থেকে বিষয়টি তদন্তের দাবি ওঠে। অভিযোগের গুরুত্ব বিবেচনায় তৎকালীন জেলা প্রশাসক তদন্তের নির্দেশ দেন। পরবর্তীতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের গঠিত তদন্ত কমিটি তদন্ত শুরু করে। দীর্ঘ তদন্ত শেষে কমিটি তৎকালীন আরএমও ডা. হোসেন ইমামের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পায়। এরই ধারাবাহিকতায় তাঁর বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা করা হয়।
কুষ্টিয়া সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, সাতটি পদে মোট ১১৫ জন জনবল নিয়োগের জন্য বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছিল। ২০২৫ সালের ৪ মার্চ থেকে ২৪ মার্চ পর্যন্ত অনলাইনে আবেদন গ্রহণ করা হয়। পদগুলোর মধ্যে ছিল স্বাস্থ্য সহকারী ৯৭টি, পরিসংখ্যানবিদ তিনটি, কোল্ড চেইন টেকনিশিয়ান একটি, স্টোর কিপার চারটি, সাঁট-মুদ্রাক্ষরিক কাম কম্পিউটার অপারেটর একটি, অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক পাঁচটি এবং ড্রাইভার চারটি পদ।
নিয়োগের অনিয়ম ও প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় ডা. হোসেন ইমাম ছাড়াও অন্য কারও জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেছে কি না জানতে চাইলে কুষ্টিয়ার সিভিল সার্জন ডা. এসএম কামাল হোসেন বলেন, এ বিষয়ে তাঁর কাছে কোনো তথ্য নেই। বিষয়টি তদন্ত কমিটিই বলতে পারবে।
একজন চিকিৎসকের বিরুদ্ধে নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস ও অনিয়মের অভিযোগে বিভাগীয় মামলা দায়েরের ঘটনায় কুষ্টিয়ার স্বাস্থ্য বিভাগে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। এখন বিভাগীয় মামলার পরবর্তী কার্যক্রম এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার লিখিত জবাবের দিকে নজর রয়েছে সংশ্লিষ্টদের।



ফেসবুক কর্নার