June 29, 2026, 1:38 pm
শিরোনাম :
অসুস্থ হয়ে ঢাকা মেডিকেলে দীপু মনি জন্মদিনে রুক্মিনীকে নিয়ে দেবের প্রেমময় পোস্ট অর্থনীতিকে তিন ধাপে সাজাতে চায় সরকার: প্রধানমন্ত্রী চার বছরেও শেষ হয়নি বংশী নদীর সেতু, নড়বড়ে সাঁকোই ভরসা; চরম ঝুঁকিতে হাজারো মানুষের চলাচল কালীগঞ্জে এলজিইডি অফিসে না গিয়েও হাজিরা খাতায় স্বাক্ষরের অভিযোগ, সিও রেজাকে ঘিরে নানা প্রশ্ন ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে থানায় যেতে গিয়ে হামলার শিকার কিশোরীসহ মা-বাবা, হাসপাতালে ভর্তি পঞ্চগড়ে মাদ্রাসাছাত্রী অপহরণের অভিযোগ, ৮ দিনেও মেলেনি খোঁজ; উৎকণ্ঠায় পরিবার বান্দরবানে রিসোর্টে নারী পর্যটককে হেনস্তা ও ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় সর্বোচ্চ দুর্নীতি হয়েছে: সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ঠাকুরগাঁওয়ে ট্রাক-মোটরসাইকেল সংঘর্ষে মায়ের পর প্রাণ গেল ছেলেরও

চার বছরেও শেষ হয়নি বংশী নদীর সেতু, নড়বড়ে সাঁকোই ভরসা; চরম ঝুঁকিতে হাজারো মানুষের চলাচল

আলামিন, ধামরাই প্রতিনিধি:
Screenshot

ঢাকার ধামরাই উপজেলার পশ্চিম দেপাশাই এলাকায় বংশী নদীর ওপর নির্মাণাধীন সেতুর কাজ চার বছরেও শেষ হয়নি। দীর্ঘসূত্রতা ও নির্মাণকাজের ধীরগতির কারণে দুই পাড়ের কয়েক হাজার মানুষের দুর্ভোগ চরম আকার ধারণ করেছে। নিরাপদ সেতুর অপেক্ষায় থাকা এলাকাবাসী এখনো জীবনের ঝুঁকি নিয়ে একটি নড়বড়ে বাঁশের সাঁকো ব্যবহার করে নদী পারাপার করছেন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রতিদিন এই ঝুঁকিপূর্ণ সাঁকো দিয়ে স্কুল-কলেজ ও মাদ্রাসার শিক্ষার্থী, কর্মজীবী মানুষ, ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ চলাচল করছেন। বর্ষা মৌসুমে সাঁকোটি আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে। সামান্য অসাবধানতায় বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে।

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) সূত্রে জানা গেছে, ২০২২ সালের ৩১ মে সেতুর নির্মাণকাজ শুরু হলেও প্রথম ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নির্ধারিত সময়ে কাজ সম্পন্ন করতে ব্যর্থ হয়। পরে ২০২৪ সালের ৬ নভেম্বর পুনরায় টেন্ডারের মাধ্যমে ৬ কোটি ৬৪ লাখ ১৬ হাজার ৪৬৮ টাকা ব্যয়ে নতুন ঠিকাদার নিয়োগ দেওয়া হয়। আগামী ১২ আগস্ট ২০২৬ সালের মধ্যে কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও স্থানীয়দের দাবি, এখন পর্যন্ত নির্মাণকাজের অগ্রগতি ৬০ শতাংশেরও কম।

এদিকে দীর্ঘদিন ধরে উন্মুক্ত অবস্থায় পড়ে থাকা রডে মরিচা ধরায় নির্মাণমান নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা। তাদের আশঙ্কা, নিম্নমানের কাজ হলে ভবিষ্যতে সেতুর স্থায়িত্ব ও নিরাপত্তা বিঘ্নিত হতে পারে।

এলাকাবাসী জানান, সেতুর কাজ বিলম্বিত হওয়ায় সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়ছেন শিক্ষার্থী, কৃষক, ব্যবসায়ী ও জরুরি রোগীবাহী যানবাহন। প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে পারাপার করতে হচ্ছে, যা যেকোনো সময় প্রাণঘাতী দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে।

স্থানীয় অভিভাবক ও শিক্ষকরা দ্রুত সেতুর নির্মাণকাজ শেষ করার পাশাপাশি মূল সেতু চালু না হওয়া পর্যন্ত একটি নিরাপদ অস্থায়ী সেতু নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে ধামরাই উপজেলা প্রকৌশলী মিশুক কুমার দত্ত বলেন, নির্মাণসামগ্রীর মূল্যবৃদ্ধি এবং কিছু সামাজিক জটিলতার কারণে কাজে বিলম্ব হয়েছে। তবে দ্রুত কাজ শেষ করতে নিয়মিত তদারকি করা হচ্ছে।

ধামরাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আল মামুন বলেন, আগের ঠিকাদার কাজ অসমাপ্ত রেখে যাওয়ায় নতুন ঠিকাদারের মাধ্যমে নির্মাণকাজ এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করতে প্রশাসন প্রয়োজনীয় তদারকি ও পদক্ষেপ গ্রহণ করছে।

স্থানীয়দের প্রত্যাশা, দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে দ্রুত সেতুর নির্মাণকাজ সম্পন্ন করা হবে। এতে এলাকার হাজারো মানুষের নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন যাতায়াত নিশ্চিত হওয়ার পাশাপাশি শিক্ষা, কৃষি ও স্থানীয় অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।



ফেসবুক কর্নার