July 16, 2026, 9:57 pm
শিরোনাম :

বাংলাদেশে এসে বউ খুঁজবেন না, নাগরিকদের সতর্ক করল চীন

অভয়নগর প্রতিবেদক

বাংলাদেশে দালাল বা অবৈধ ঘটকালি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে স্ত্রী খুঁজতে না আসার জন্য চীনা নাগরিকদের সতর্ক করেছে ঢাকায় অবস্থিত চীনের দূতাবাস। আন্তঃসীমান্ত বিয়ের আড়ালে প্রতারণা ও মানবপাচারের ঘটনা বাড়তে থাকায় এই সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে।

দূতাবাস সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক বার্তায় জানায়, কোনো চীনা নাগরিক যদি দালাল বা এজেন্সির মাধ্যমে বাংলাদেশে স্ত্রী খুঁজতে আসেন, তাহলে মানবপাচারের সন্দেহে তিনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারিতে পড়তে পারেন এবং গ্রেপ্তারও হতে পারেন।
দূতাবাস আরও উল্লেখ করে, বাংলাদেশের মানবপাচারবিরোধী আইন অনুযায়ী এ অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হলে কমপক্ষে সাত বছরের কারাদণ্ড ও পাঁচ লাখ টাকা জরিমানার বিধান রয়েছে। অপরাধের ধরন ও গুরুত্ব বিবেচনায় আদালত যাবজ্জীবন কারাদণ্ড বা মৃত্যুদণ্ডও দিতে পারেন। এ ছাড়া মানবপাচারে প্ররোচনা বা সহায়তার মতো তুলনামূলক কম গুরুতর অপরাধের জন্য তিন থেকে সাত বছরের কারাদণ্ড এবং সর্বোচ্চ ২০ হাজার টাকা জরিমানার বিধান রয়েছে।
চীনা দূতাবাস জানায়, সাম্প্রতিক সময়ে আন্তর্জাতিক বিয়ের নামে প্রতারণা ও মানবপাচারের ঘটনা উদ্বেগজনক হারে বেড়েছে। তাদের ভাষ্য, আন্তর্জাতিক বিয়ে অবশ্যই পারস্পরিক সম্মতি, আস্থা ও প্রকৃত ভালোবাসার ভিত্তিতে হওয়া উচিত। অর্থের বিনিময়ে বা দালালের মাধ্যমে ‘বউ কেনার’ চেষ্টা অনেক সময় আর্থিক ক্ষতি, প্রতারণা এবং ব্যক্তিগত নিরাপত্তার ঝুঁকি ডেকে আনে।
চীনে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক ঘটকালি আইনত নিষিদ্ধ হলেও নারী-পুরুষের সংখ্যাগত ভারসাম্যহীনতার কারণে এ ধরনের অবৈধ চক্র সক্রিয় হয়ে উঠেছে। ২০২০ সালের জাতীয় আদমশুমারির তথ্য অনুযায়ী, দেশটিতে বিয়েযোগ্য বয়সী নারীর তুলনায় প্রায় এক কোটি ৭৫ লাখ বেশি পুরুষ রয়েছে, যা অবৈধ কনে ব্যবসা বৃদ্ধির অন্যতম কারণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

এ পরিস্থিতিতে বিদেশি নারীদের মানবপাচার থেকে সুরক্ষা দেওয়া এবং প্রতারণার মাধ্যমে চীনা নাগরিকদের আর্থিক ক্ষতি ঠেকাতে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিচ্ছে বেইজিং। এর অংশ হিসেবে ভিয়েতনাম, মিয়ানমার, লাওস, পাকিস্তান ও নেপালে অবস্থিত চীনা দূতাবাস ও কনস্যুলেটও একই ধরনের সতর্কবার্তা প্রকাশ করেছে।
নিজ দেশেও মানবপাচার ও প্রতারণামূলক ঘটকালি চক্রের বিরুদ্ধে অভিযান জোরদার করেছে চীন। দেশটির সুপ্রিম পিপলস প্রোকিউরেটরেটের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৫ সালের মার্চ পর্যন্ত মানবপাচার ও প্রতারণামূলক ঘটকালির অভিযোগে ১ হাজার ৫৪৬ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
তদন্তে উঠে এসেছে, অনেক চীনা নাগরিক কয়েক হাজার ইউয়ান খরচ করে বিদেশি স্ত্রী খুঁজলেও বিয়ের পর অনেক নববধূ নিখোঁজ হয়ে যান। আবার কিছু ঘটনায় নারীদের অপহরণ করে জোরপূর্বক চীনা পুরুষদের সঙ্গে বিয়ে দেওয়ার ঘটনাও সামনে এসেছে।
গত বছরের মার্চে মাদাগাস্কারে আটজন চীনা নাগরিককে চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে তরুণীদের চীনে পাচারের অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়। এছাড়া সম্প্রতি হুনান, আনহুই ও শানডং প্রদেশে যৌথ অভিযানে বিয়ের নামে প্রতারণার সঙ্গে জড়িত একটি চক্রের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়। ওই অভিযানে ৬৩টি ফৌজদারি মামলা দায়ের, ৩৩টি প্রশাসনিক শাস্তি প্রদান এবং ৫০ লাখ ইউয়ানের বেশি মূল্যের সম্পদ জব্দ করা হয়। চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম সিজিটিএনের তথ্য অনুযায়ী, এই চক্রের কার্যক্রম চীন, ভিয়েতনাম ও মিয়ানমারজুড়ে বিস্তৃত ছিল।



ফেসবুক কর্নার