May 14, 2026, 8:48 am
শিরোনাম :
শ্যামগঞ্জ বাজারে আমিনুল সরকারের বেকারিতে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশের ভয়াবহ চিত্র অতিরিক্ত সোডা ব্যবহার, নোংরা পরিবেশে খাদ্য উৎপাদন—জনস্বাস্থ্যে মারাত্মক ঝুঁকির অভিযোগ ইপিজেডে রাস্তা দখল ও চাঁদাবাজির অভিযোগে আতঙ্কে হকার-শ্রমিকরা গর্জনিয়ায় পুলিশের অভিযানে ১ লাখ ইয়াবা উদ্ধার ঝিকরগাছায় দ্রুতগতির মোটরসাইকেলের ধাক্কায় নৈশপ্রহরীর মৃত্যু যৌতুকের দাবিতে স্ত্রী হত্যা: রাঙামাটিতে স্বামীর যাবজ্জীবন কারাদণ্ড কুড়িগ্রামে খাদে পড়ার উপক্রম স্কুলবাস, অল্পের জন্য রক্ষা পেল শিক্ষার্থীরা শিবচরে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে গৃহবধূর মৃত্যু অতিবর্ষণ ও জলাবদ্ধতায় স্থবির রৌমারী, ১৮৪ মিমি বৃষ্টিতে বিপর্যস্ত জনজীবন সরকারের উন্নয়ন বার্তা পৌঁছে দিতে গুইমারায় তথ্য অফিসের প্রেস ব্রিফিং ইবি থিয়েটারের নতুন নেতৃত্বে প্রণয় ও জ্যোতি

প্রধান শিক্ষক আব্দুস সামাদের ‘রাজকীয়’ বিদায়কে ঘিরে অভিযোগ

অভয়নগর প্রতিবেদক

বিল্লাল হুসাইন।।  যশোরের ঝিকরগাছা বদরুদ্দিন মুসলিম (বিএম) হাই স্কুলের প্রধান শিক্ষক আব্দুস সামাদের নিজের বেলায় ধুমধাম ভাবে রাজকীয় বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠান করে ঘরে ফিরবেন। কিন্তু তার বাড়ি ফেরার পূর্বেই অনুষ্ঠান বন্ধের দাবিতে গত রবিবার (২৫ জানুয়ারি) বিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত সিনিয়র সহকারী শিক্ষক এম আতিয়ার রহমান উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) বরাবর লিখিত অভিযোগ করেছেন। আবেদনে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে বৈষম্যের অভিযোগ আনা হয়েছে। এছাড়াও বিদায় অনুষ্ঠান ঘিরে অর্থ আদায়ের গুরুতর অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, আগামী ৩১ জানুয়ারি প্রধান শিক্ষক অবসরে যাচ্ছেন। তাঁর বিদায় উপলক্ষে জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠানের তোড়জোড় চললেও এর আগে অবসর নেওয়া প্রবীণ শিক্ষকদের কোনো সম্মানজনক বিদায় দেওয়া হয়নি। এম আতিয়ার রহমান অভিযোগ করেন। তাঁদের অত্যন্ত অমর্যাদাকরভাবে বিদায় নিতে হয়েছে, যা শিক্ষক সমাজের জন্য অপমানজনক। এই বৈষম্য দূর করতে রাজকীয় অনুষ্ঠান বন্ধের দাবি জানানো হয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক সূত্র জানিয়েছে, স্কুলের সাধারণ ফান্ডে প্রায় ১৫লক্ষ টাকা থাকলেও শিক্ষক-কর্মচারীদের ১৫মাসের বেতন বকেয়া রয়েছে। অথচ প্রধান শিক্ষকের বিদায়ের জন্য শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে মাথাপিছু ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা এবং এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের কাছ থেকে ৮ হাজার টাকা ও খন্ডকালীন শিক্ষকদের মাথা প্রতি ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত বাধ্যতামূলক চাঁদা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। এছাড়া স্কুলের ফান্ড থেকে প্রধান শিক্ষককে ৫লক্ষ টাকা প্রদানের পরিকল্পনাও রয়েছে। এছাড়াও তার বিদায় অনুষ্ঠান ঘিরে প্রায় সাড়ে ৪থেকে ৫লক্ষ টাকা ব্যয় হবে বলে জানা যায়।
জানতে চাইলে অভিযোগ অস্বীকার করে প্রধান শিক্ষক আব্দুস সামাদ বলেন, এসএসসি পরীক্ষার্থীদের ও হেড স্যারের বিদায় দেওয়া বিষয়ে টাকা নেওয়া হচ্ছিল। কিন্তু আমি পরে জানতে পেরে বন্ধ করে দিয়েছি। স্কুলের ছাত্র ছাত্রীদের্ তাদের মত করে বিদায় দেবে এখানে টাকা পয়সার কোন বিষয় নেই। আর শিক্ষকরা কি করবে সেটা তাদের বিষয়। তারা যদি মনে করে আমি হেড স্যারকে ৫হাজার টাকা দিবো সেটা তাদের বিষয়। আমি এই বিষয়ে কিছু  জানিনা। শিক্ষক কর্মচারীর বেতন বন্ধের বিষয়ে তিনি বলেন, এখন আমাদের কোন কমিটি নেই। নতুন কমিটি না হওয়া পর্যন্ত টাকা তুলতে পারছি না। যার কারণে স্যারদের বেতন দিতে পারছি না। সামনে নতুন কমিটি হলে সব ঠিক হয়ে যাবে। আমার আর চাওয়া পাওয়ার কিছুই নেই। যেভাবে বিদায় দিবে সেই ভাবেই আমি বিদায় নিয়ে চলে আসবো। আমি সারাজীবন বহু ত্যাগ স্বীকার করেছি। আর অভিযোগ দিয়েছে দিক। ওই অভিযোগ আমি শুনলাম ও আমার নতুন বিষয় না। তাদেরকে দাওয়াত দিছি তারা আসেনি। তাছাড়া সবাইকে বিদায় দিয়েছি। কিন্তু হয়তো এতো জাকজমকপূর্ণ ভাবে দিতে পারিনি। তখন অবস্থা ভালো ছিলো না।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও স্কুল কমিটির সভাপতি রনী খাতুন জানান, তিনি লিখিত আবেদন পেয়েছেন। তবে তিনি উল্লেখ করেন, স্কুল ম্যানেজিং কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এ ধরনের অনুষ্ঠান বন্ধের সুযোগ কম। প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত প্রশাসনের পক্ষ থেকে অনুষ্ঠান বন্ধের কোনো কার্যকরী পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলে জানা যায়।



ফেসবুক কর্নার