কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের প্রধান ফটকের সামনে সরকারি জমি দখল করে একের পর এক অস্থায়ী দোকান গড়ে ওঠার অভিযোগ উঠেছে। প্রতিদিন নতুন নতুন দোকান বসানোর ফলে হাসপাতালের প্রবেশপথ সংকুচিত হয়ে পড়েছে। এতে রোগী, স্বজন, পথচারী ও যানবাহনের চলাচলে চরম ভোগান্তির সৃষ্টি হচ্ছে। পাশাপাশি কুষ্টিয়া-রাজবাড়ী-ঢাকা মহাসড়কে প্রায়ই যানজট দেখা দিচ্ছে। এ অবস্থায় দ্রুত অবৈধ দখল উচ্ছেদে প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ দাবি করেছেন স্থানীয় সচেতন নাগরিকরা।
বুধবার (২২ জুলাই) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে সরেজমিনে হাসপাতালের প্রধান ফটক এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, সরকারি জায়গা দখল করে ডাব, লেবুর শরবত, আনারস, পেয়ারা, কমলা, আপেলসহ বিভিন্ন ফলমূল ও খাদ্যপণ্যের অস্থায়ী দোকান বসানো হয়েছে। পাশাপাশি চায়ের দোকানও গড়ে উঠেছে। হাসপাতালের পাশের জলাশয় ঘেঁষে মাটি ও বালু ফেলে জায়গা ভরাট করে এসব দোকান স্থাপন করা হয়েছে। এমনকি একটি দোকানের পেছনে খালের ভেতরে টিউবওয়েল স্থাপনের অভিযোগও রয়েছে।
স্থানীয়দের দাবি, কিছুদিন আগে হাসপাতাল এলাকা থেকে সেনাবাহিনীর অস্থায়ী ক্যাম্প সরিয়ে নেওয়ার পর কয়েকজন ব্যক্তি সেখানে বাঁশ পুঁতে সরকারি জমি দখলের চেষ্টা করেছিলেন। পরে প্রশাসনের হস্তক্ষেপে জায়গাটি দখলমুক্ত করা হলেও বর্তমানে একই স্থানে আবারও অস্থায়ী দোকানের আড়ালে সরকারি জমি দখল করা হচ্ছে।
হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রোগী ও তাদের স্বজনরা জানান, প্রতিদিনই নতুন নতুন দোকান বসানো হচ্ছে। ছাতা টাঙিয়ে কিংবা অস্থায়ী কাঠামো তৈরি করে ব্যবসা পরিচালিত হলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ নেই। এতে প্রশ্ন উঠেছে, কারা সরকারি জমি দখল করে এসব দোকান পরিচালনা করছে এবং তাদের পেছনে কোনো প্রভাবশালী মহলের আশ্রয়-প্রশ্রয় রয়েছে কি না। তারা বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
সচেতন নাগরিকদের মতে, একটি গুরুত্বপূর্ণ সরকারি হাসপাতালের প্রধান প্রবেশপথে এভাবে অবৈধ স্থাপনা গড়ে ওঠায় হাসপাতালের পরিবেশ ও সৌন্দর্য ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। একই সঙ্গে অ্যাম্বুলেন্স চলাচল, রোগী ওঠানামা এবং জরুরি স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। মহাসড়কের পাশে অনিয়ন্ত্রিতভাবে দোকান বসানোর কারণে যে কোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কাও রয়েছে।
এ বিষয়ে স্থানীয় সচেতন মহল হাসপাতালের সামনের সরকারি জমি দ্রুত দখলমুক্ত করে সব ধরনের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের পাশাপাশি হাসপাতালের প্রবেশপথ ও আশপাশের এলাকায় শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে জেলা প্রশাসন, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।