April 23, 2026, 5:56 pm
শিরোনাম :
কালিগঞ্জের ডিআরএম কলেজের অধ্যক্ষ আবুল বাশার বরখাস্ত শান্তিগঞ্জে জাতীয় পুষ্টি সপ্তাহ উদ্বোধন, সপ্তাহজুড়ে সচেতনতা কর্মসূচি তীব্র গরমে অভিভাবকদের পাশে দাঁড়ালেন ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থী শাহীন মাহমুদ ডাক্তার হওয়ার স্বপ্নে এগিয়ে চলা তাপস্বীর পাশে জেলা পরিষদ বাগমারায় ৭ মাসের শিশুকে নিয়ে নিখোঁজ গৃহবধূ, উৎকণ্ঠায় পরিবার শিবগঞ্জে টানা চুরির ঘটনায় আতঙ্ক, চার দিনে ১৩ বাড়িতে সিঁধ কাটা মান্দায় জমি বিরোধে সাত বিঘার বোরো ধান কেটে নেওয়ার অভিযোগ ব্যবসা নিয়ে সংঘর্ষ মামলায় এনায়েতনগর যুবদলের তিন নেতা জামিনে মুক্তির পথে সিংগাইরে নারীর মরদেহ উদ্ধার, রহস্য উদঘাটনে ময়নাতদন্তের অপেক্ষায় পুলিশ শেরপুরে জমি দখলের অভিযোগে উত্তেজনা, জোরপূর্বক ঘর নির্মাণের দাবি

মৃত্যুর গতিতে তারুণ্য:রৌমারীতে কিশোরদের বেপরোয়া বাইক চালনা ও আমাদের দায়

অভয়নগর প্রতিবেদক

 

বর্তমানে শহরের অলিগলি থেকে শুরু করে রাজপথ—সবখানেই এক আতঙ্কের নাম কিশোরদের ‘উগ্র মোটরসাইকেল চালনা’। উঠতি বয়সের ছেলেদের মধ্যে দামী বাইক নিয়ে বেপরোয়া গতিতে ছুটে চলা এবং বিপজ্জনক স্ট্যান্ট (Stunt) প্রদর্শনের প্রতিযোগিতা দিন দিন বাড়ছে। এতে যেমন তারা নিজেরা প্রাণ হারাচ্ছে, তেমনি অনিরাপদ হয়ে পড়ছে সাধারণ পথচারী ও অন্যান্য যানবাহনের যাত্রীরা।
আইন অনুযায়ী ড্রাইভিং লাইসেন্স পাওয়ার ন্যূনতম বয়স ১৮ বছর। কিন্তু দুঃখজনকভাবে দেখা যায়, ১৪-১৫ বছরের কিশোরদের হাতেও বাবা-মা শখের বসে বা আবদার মেটাতে তুলে দিচ্ছেন উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন মোটরসাইকেল। ট্রাফিক আইন সম্পর্কে কোনো জ্ঞান না থাকায় এবং কিশোর সুলভ আবেগের বশবর্তী হয়ে তারা বাইককে পরিণত করছে মরণাস্ত্রে। হেলমেট না পরা, রাস্তার উল্টো পথে চলা এবং উচ্চশব্দে হর্ন বাজিয়ে পরিবেশ নষ্ট করা তাদের প্রতিদিনের অভ্যাসে পরিণত হয়েছে।বর্তমান সময়ে ফেসবুক, টিকটক বা ইউটিউবে ‘বাইক স্ট্যান্ট’ বা দ্রুতগতির ভিডিও আপলোড করে সস্তা জনপ্রিয়তা পাওয়ার নেশায় বুঁদ হয়ে আছে এক শ্রেণির তরুণ। এই ‘লাইক-কমেন্ট’ পাওয়ার প্রতিযোগিতায় তারা ভুলে যাচ্ছে প্রাণের মায়া। অনেক সময় এই কিশোররা দলবদ্ধভাবে রাস্তায় মহড়া দেয়, যাকে ‘কিশোর গ্যাং’ কালচারের একটি অংশ হিসেবেও চিহ্নিত করছেন সমাজবিজ্ঞানীরা। সড়ক দুর্ঘটনার পরিসংখ্যান বলছে, মোটরসাইকেল দুর্ঘটনার একটি বড় অংশই কিশোর ও যুবকদের বেপরোয়া গতির কারণে ঘটছে। এতে শুধু মৃত্যু নয়, হাজারো তরুণ পঙ্গুত্ব বরণ করে পরিবার ও সমাজের বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে। একটি মুহূর্তের আনন্দ সারা জীবনের কান্নায় পরিণত হচ্ছে।
প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ:
এই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে শুধু কঠোর আইন প্রয়োগই যথেষ্ট নয়, প্রয়োজন সামাজিক সচেতনতা:
১. অভিভাবকদের সচেতনতা: সন্তানের হাতে মোটরসাইকেল তুলে দেওয়ার আগে অভিভাবকদের ভাবতে হবে তারা কি উপহার দিচ্ছেন নাকি মৃত্যুর পরোয়ানা দিচ্ছেন। সন্তানের চলাফেরা ও সঙ্গীদের দিকে নজর রাখা জরুরি।
২. শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ভূমিকা: স্কুল-কলেজে ট্রাফিক আইন ও বেপরোয়া বাইক চালনার কুফল সম্পর্কে নিয়মিত সচেতনতামূলক প্রচারণা চালাতে হবে।
তারুণ্যের শক্তি হওয়া উচিত গঠনমূলক কাজে, ধ্বংসাত্মক উন্মাদনায় নয়। একটি উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ গড়ার আগে অকালেই যেন সড়কের পিচে কোনো প্রাণ ঝরে না যায়, সেদিকে আমাদের সবার সজাগ দৃষ্টি রাখা প্রয়োজন। মনে রাখতে হবে, সময়ের চেয়ে জীবনের মূল্য অনেক বেশি।



ফেসবুক কর্নার