
কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাসেবা নিয়ে নানা অনিয়ম, অব্যবস্থাপনা ও দুর্ভোগের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, হাসপাতালের সেবার মান দিন দিন অবনতি হওয়ায় সাধারণ রোগীদের ভোগান্তি বেড়েই চলেছে।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, অনেক সময় চিকিৎসকদের অনুপস্থিতি ও অবহেলার কারণে রোগীরা কাঙ্ক্ষিত সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। বিশেষ করে গাইনি বিভাগে রোগীদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ ও যথাযথ চিকিৎসা না দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। কিছু ক্ষেত্রে নার্সদের দিয়েই চিকিৎসা কার্যক্রম চালানো হচ্ছে বলে দাবি করেছেন রোগীরা, যা ঝুঁকিপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
হাসপাতালের পরিবেশ নিয়েও রয়েছে অসন্তোষ। বিভিন্ন ওয়ার্ড ও করিডোরে পরিচ্ছন্নতার অভাব, ময়লা-আবর্জনা জমে থাকা এবং জনবল সংকটের কারণে নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা যাচ্ছে না বলে জানা গেছে। এছাড়া মহিলা ও শিশু ওয়ার্ডে পানি সংকটের কথাও জানিয়েছেন রোগী ও স্বজনরা।
অন্যদিকে, হাসপাতালের কিছু চিকিৎসক ও কর্মচারী দীর্ঘদিন একই কর্মস্থলে থাকার ফলে একটি প্রভাবশালী গোষ্ঠী গড়ে উঠেছে বলে অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয়দের ভাষ্য, এদের কেউ কেউ সরকারি দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি বেসরকারি ক্লিনিকে বেশি সময় দিচ্ছেন, যা সরকারি সেবাকে ব্যাহত করছে।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য জানা যায়নি। উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও কথা বলা সম্ভব হয়নি।
এ বিষয়ে কোম্পানীগঞ্জের সচেতন মহল বলছে, হাসপাতালের অনিয়ম দূর করে সেবার মান উন্নয়নে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন। তারা সংশ্লিষ্টদের জবাবদিহিতা নিশ্চিত এবং প্রয়োজনীয় সংস্কারের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের জন্য মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।