
নাটোরের নলডাঙ্গায় শালিক পাখি শিকার করে জবাই করার ঘটনায় বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইন, ২০২৬-এর আওতায় থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। বন বিভাগের দাবি, এ ঘটনায় বন্যপ্রাণী ও পরিবেশের প্রায় ১০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে।
মামলার বাদী মো. জাহিদুল ইসলাম, ফরেস্ট রেঞ্জার (ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা), নাটোর এসএফএনটিসি, সামাজিক বন বিভাগ, রাজশাহী।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার ৩ নম্বর খাজুরা ইউনিয়নের হাটবিল এলাকায় কয়েকজন ব্যক্তি ফাঁদ ও জাল ব্যবহার করে শালিক পাখি শিকার করে জবাই করেন। বন বিভাগের ভাষ্য অনুযায়ী, বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইন, ২০২৬-এর তফসিল-২ এ অন্তর্ভুক্ত এসব পাখি শিকার করা আইনের ধারা ৪২(১)-এর লঙ্ঘন। রোববার নলডাঙ্গা থানায় কয়েকজনের নাম উল্লেখ করে এজাহার দায়ের করা হয়।
এদিকে শালিক পাখি শিকার ও জবাইয়ের কয়েকটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ২০ ও ২৭ সেকেন্ডের দুটি ভিডিওতে কয়েকজনকে বিল এলাকায় ফাঁদে ধরা পাখি জবাই করতে দেখা যায়। ভিডিওগুলো ছড়িয়ে পড়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। অনেকেই জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
এক প্রত্যক্ষদর্শী নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, ঘটনাটি গত ১৯ জুলাই খাজুরা ইউনিয়নের হাটবিলা গ্রামের একটি বিলে ঘটে। তার দাবি, ঘটনাস্থলে বিপ্লব তালুকদার, আশিক হোসেন, ইসলাম হোসেন ও সজিব হোসেন উপস্থিত ছিলেন। জবাইয়ের পর পাখিগুলো বিভিন্ন স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়।
ফরেস্ট রেঞ্জার মো. জাহিদুল ইসলাম বলেন, নলডাঙ্গার হাটবিলা এলাকায় সংঘটিত এই পাখি হত্যার ঘটনা অত্যন্ত নিন্দনীয়। বন বিভাগের পক্ষ থেকে থানায় লিখিত এজাহার দায়ের করা হয়েছে। তিনি বলেন, বন্যপ্রাণী হত্যা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ এবং পরিবেশ ও কৃষির ভারসাম্য রক্ষায় এসব পাখির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।
ঊর্ধ্বতন বন কর্মকর্তা সুবেদার ইসলাম জানান, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে বন বিভাগের পক্ষ থেকে মামলা করা হয়েছে।
নলডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নূরে আলম বলেন, অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।