August 15, 2026, 8:31 pm
শিরোনাম :
রগকাটা জামায়াত-শিবির স্বরূপে ফিরেছে: নুরুল হক নুর শাহজালাল মাজারের ডেগে মিলল শেখ হাসিনার নামে চিঠি জামায়াত-গণঅধিকার পরিষদ সংঘর্ষ, এমপি আমির হামজাসহ আহত ১০ কলকাতায় ‘রাত দখল’ মিছিলে অংশ নিয়ে আলোচনায় জয়া প্রকাশ্যে এল মার্ভেল সিনেম্যাটিক ইউনিভার্সের বহুল প্রতীক্ষিত সিরিজ ‘ভিশনকোয়েস্ট’ কন্যা সন্তানের মা হলেন অভিনেত্রী পূজা পুরুষ প্রমাণিত হওয়ায় আজীবন নিষিদ্ধ দুই নারী অ্যাথলেট, বাতিল সব পদক প্রধানমন্ত্রীর ‘চ্যালেঞ্জ’ গ্রহণ করে চার পরিকল্পনা তুলে ধরলেন হাসনাত আবদুল্লাহ বিভ্রান্তির রাজনীতি ছেড়ে দেশ গঠনে এগিয়ে আসুন: প্রধানমন্ত্রী রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনে মিয়ানমার সরকারের বড় ঘোষণা

তালায় শিক্ষক মফিদুল ইসলামের অশালীন ভিডিও নিয়ে বিতর্ক ব্যাখ্যায় অসঙ্গতি, বিভ্রান্তিকর দাবিতে জনমনে প্রশ্ন

অভয়নগর প্রতিবেদক

সাতক্ষীরার তালা উপজেলার ঘোনা পল্লীমঙ্গল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ধর্মীয় বিষয়ক শিক্ষক মফিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া অশালীন ভিডিও ঘিরে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ভিডিওটি নিয়ে অভিযুক্ত শিক্ষকের দেওয়া ব্যাখ্যাকে সম্পূর্ণ অযৌক্তিক, বিভ্রান্তিকর ও বাস্তবতাবিবর্জিত বলে দাবি উঠেছে।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, অভিযুক্ত শিক্ষক মফিদুল ইসলাম দাবি করেছেন— ভিডিওটি তিনি নাকি সিমেন অ্যানালাইসিস পরীক্ষার উদ্দেশ্যে ধারণ করেছিলেন এবং অসাবধানতাবশত তা তার মোবাইল ফোন থেকে ছড়িয়ে পড়ে। তবে সচেতন মহল ও অভিযোগকারীদের মতে, এই বক্তব্য বাস্তবতার সঙ্গে কোনোভাবেই সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

প্রথমত, মফিদুল ইসলামের নিজের বক্তব্য অনুযায়ী তার একটি সন্তান রয়েছে, যার বয়স তিন বছরের বেশি। সন্তান থাকা সত্ত্বেও সিমেন অ্যানালাইসিস পরীক্ষার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে তার দাবি স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্নবিদ্ধ ও অবিশ্বাস্য বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

দ্বিতীয়ত, ভাইরাল হওয়া ভিডিওটি পর্যবেক্ষণ করলে দেখা যায়, এটি ২০২৫ সালের ৩০ ডিসেম্বর ধারণ করা হয়েছে। ভিডিওতে দৃশ্যমান পরিবেশ, সিলিং ও দোকানের কাঠামো দেখে এটি নোয়াপাড়া বাজারে অবস্থিত অভিযুক্তের নিজস্ব ঔষধ ফার্মেসি বলেই প্রতীয়মান হয়। কোনোভাবেই এটিকে হাসপাতাল বা অনুমোদিত পরীক্ষাগার হিসেবে চিহ্নিত করা যায় না।

তৃতীয়ত, চিকিৎসা বিজ্ঞানের স্বীকৃত নিয়ম অনুযায়ী সিমেন অ্যানালাইসিস পরীক্ষার ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট পদ্ধতিতে বীর্য সংগ্রহ করে ১০ থেকে ১৫ মিনিটের মধ্যে পরীক্ষাগারে জমা দেওয়ার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। কিন্তু আলোচ্য ভিডিও ও সময় বিবেচনায় অভিযুক্তের কার্যকলাপের সঙ্গে এই চিকিৎসাগত প্রক্রিয়ার কোনো মিল পাওয়া যায় না।

অভিযোগকারীদের দাবি, অভিযুক্ত শিক্ষক তার অনৈতিক ও অনভিপ্রেত কর্মকাণ্ড আড়াল করতে বিভ্রান্তিকর ও মনগড়া ব্যাখ্যা দিচ্ছেন, যা শিক্ষকতা পেশা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং সমাজের নৈতিক মূল্যবোধের জন্য চরমভাবে লজ্জাজনক।

এ বিষয়ে স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছেন, একজন ধর্মীয় বিষয়ক শিক্ষক হিসেবে এমন ঘটনায় জড়িত থাকা শুধু ব্যক্তিগত নয়, বরং শিক্ষাঙ্গন ও সামাজিক মূল্যবোধের ওপর সরাসরি আঘাত। বিষয়টি নিয়ে নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্ত করে দৃষ্টান্তমূলক আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এখন সময়ের দাবি।

এ প্রসঙ্গে তালা উপজেলা নির্বাহী অফিসারের দৃষ্টি আকর্ষণ করে অভিযোগকারী যথাযথ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ও আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণের জোর দাবি জানিয়েছেন।



ফেসবুক কর্নার