August 18, 2026, 5:09 am

ইরানের সাথে সমঝোতা-স্মারকের মেয়াদ শেষ : ট্রাম্প

অভয়নগর প্রতিবেদক

ইরানের সঙ্গে করা অন্তর্বর্তী সমঝোতা স্মারকের (এমওইউ) মেয়াদ শেষ হলেও তা আর বাড়াতে রাজি নন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বরং তেহরানকে আত্মসমর্পণের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেছেন, ইরানের উচিত সাদা পতাকা উত্তোলন করা। একইসঙ্গে, হরমুজ প্রণালির ওপর যুক্তরাষ্ট্রের ‘পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ’ রয়েছে বলেও দাবি করেছেন তিনি।

সোমবার (১৭ আগস্ট) ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় ট্রাম্প জানান, ইরানের সঙ্গে প্রয়োজনীয় কোনো চুক্তিতে পৌঁছানোর সম্ভাবনা তিনি দেখছেন না। ফলে চলমান সমঝোতার মেয়াদ বাড়ানোরও কোনো পরিকল্পনা ওয়াশিংটনের নেই। জুনে করা এই অন্তর্বর্তী সমঝোতার লক্ষ্য ছিল যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাতের অবসান এবং দুই দেশের মধ্যে একটি দীর্ঘমেয়াদি সমঝোতার পথ তৈরি করা। ৬০ দিনের সময়সীমা শেষ হলেও সেই লক্ষ্য পূরণ হয়নি।

এর আগে, ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ইরানের প্রতি আরও কঠোর বার্তা দেন ট্রাম্প। দেশটির প্রতি সরাসরি আত্মসমর্পণের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, তেহরানের ‘সাদা পতাকা’ তোলা উচিত। একই সাক্ষাৎকারে ইরানের সঙ্গে পরোক্ষ যোগাযোগের একটি পথ চালু থাকার কথাও জানান তিনি।

অন্যদিকে, তেহরানের দাবি, যুক্তরাষ্ট্রের হামলা ও সমঝোতার শর্ত লঙ্ঘনের পর ওই সমঝোতা কার্যত অর্থহীন হয়ে পড়েছে। ইরানের অভিযোগ, ওয়াশিংটন চুক্তির প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়ন না করায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে। দুই পক্ষই পরস্পরকে সমঝোতা ভেস্তে যাওয়ার জন্য দায়ী করছে।

এদিকে, হরমুজ প্রণালিতে নৌ-চলাচল স্বাভাবিক করতে ওমানের সঙ্গে বিকল্প ব্যবস্থার বিষয়ে আলোচনা করছে ইরান। গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথ দিয়ে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাণিজ্যের বড় একটি অংশ পরিচালিত হয়। সাম্প্রতিক সংঘাতের কারণে প্রণালিটিতে জাহাজ চলাচল ব্যাপকভাবে কমে গেছে, ফলে বিশ্ববাজারে তেল সরবরাহ নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

ইরান ও ওমানের এই উদ্যোগেই ক্ষুব্ধ হয়েছেন ট্রাম্প। ফক্স নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার প্রচেষ্টায় ওমান কোনো ধরনের বাধা তৈরি করলে যুক্তরাষ্ট্র দেশটির বিরুদ্ধে সামরিক ব্যবস্থা নিতে পারে। ট্রাম্পের ভাষ্য, ওমানকে থামানো যুক্তরাষ্ট্রের জন্য খুবই সহজ বিষয়।

হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র, ইরান ও ওমানের মধ্যে এই পাল্টাপাল্টি অবস্থানে মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা আরও বেড়েছে। একদিকে কূটনৈতিক সমঝোতার পথ খুঁজছে ইরান ও ওমান। অন্যদিকে ওয়াশিংটনের কঠোর অবস্থান এবং ট্রাম্পের সামরিক হুমকি পরিস্থিতিকে আরও অনিশ্চিত করে তুলেছে। একই সময়ে প্রণালিতে জাহাজ চলাচল কমে যাওয়ায় আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারেও এর প্রভাব পড়ছে।



ফেসবুক কর্নার