
কুড়িগ্রাম জেলার সীমান্তঘেঁষা উপজেলা রৌমারী মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে এক গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায়ের সাক্ষী। এই জনপদ ছিল একসময় মুক্তাঞ্চল। সেই বীরত্বগাথা ও ভাষা আন্দোলনের চেতনাকে ধারণ করে আজও নীরব সাক্ষীর মতো দাঁড়িয়ে আছে রৌমারীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার। এটি কেবল একটি স্থাপত্য নয়, বরং স্থানীয় মানুষের আবেগ, স্মৃতি ও দেশপ্রেমের মিলনস্থল।
উপজেলা শহরের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত শহীদ মিনারটি বছরের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ দিবসে জনসমুদ্রে পরিণত হয়। বিশেষ করে ২১শে ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে ফুলেল শ্রদ্ধায় সিক্ত হয় এর বেদি। স্থানীয় স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, শিক্ষক, সাংস্কৃতিক কর্মী ও সাধারণ মানুষ একত্রিত হন ভাষার প্রতি ভালোবাসা আর শহীদদের স্মরণে।
তবে স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, শহীদ মিনার চত্বরটির পরিকল্পিত উন্নয়ন ও নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের প্রয়োজন রয়েছে। উৎসব ও জাতীয় দিবসগুলোতে এখানে ব্যাপক আলোকসজ্জা ও লোকসমাগম দেখা গেলেও বছরের অন্যান্য সময়ে পরিচর্যার ঘাটতি চোখে পড়ে। অনেকের অভিমত, এই এলাকাকে ঘিরে একটি স্থায়ী সাংস্কৃতিক কেন্দ্র বা পাঠাগার গড়ে তোলা গেলে নতুন প্রজন্মের কাছে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ও ভাষা আন্দোলনের গুরুত্ব আরও গভীরভাবে পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হতো।
রৌমারীর শহীদ মিনার আমাদের বারবার স্মরণ করিয়ে দেয় সেইসব বীর সন্তানের কথা, যারা নিজের রক্তের বিনিময়ে আমাদের ভাষা ও পরিচয়কে রক্ষা করেছেন। এই পবিত্র স্থানের মর্যাদা রক্ষা, সৌন্দর্য বৃদ্ধি এবং ঐতিহাসিক গুরুত্ব নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে স্থানীয় প্রশাসন ও সাধারণ মানুষের সম্মিলিত উদ্যোগ এখন সময়ের দাবি।