August 5, 2026, 5:43 am

সাংবাদিক পর্যবেক্ষক কার্ড: অপসাংবাদিকতার ঢাল যেন না হয়

কে এম জাকির

সাংবাদিকতা কেবল একটি পেশা নয়, এটি রাষ্ট্র ও সমাজের অতন্দ্র প্রহরীর দায়িত্ব। সত্যের উন্মোচন এবং জনস্বার্থ রক্ষায় একজন সাংবাদিক নিজের জীবন বাজি রেখে কাজ করেন। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে অনলাইন পোর্টালের জোয়ারে এই মহান পেশার গায়ে কালিমা লেপন করছে একদল ‘কথিত’ সাংবাদিক। বিশেষ করে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনকে কেন্দ্র করে তথাকথিত এসব সাংবাদিকদের ‘পর্যবেক্ষক কার্ড’ পাওয়ার দৌড়ঝাঁপ এখন টক অব দ্য কান্ট্রি।
একটি পর্যবেক্ষক কার্ড মানে শুধু একটি পরিচয়পত্র নয়; এটি রাষ্ট্রীয় ও নৈতিক আস্থার প্রতীক। যখন কোনো বাছবিচার ছাড়াই নামসর্বস্ব, নিবন্ধনহীন পোর্টালের কর্মীদের হাতে এই কার্ড তুলে দেওয়া হয়, তখন মূলত অপসাংবাদিকতাকেই প্রাতিষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেওয়া হয়।
আজকের দিনে পাড়ায় পাড়ায় অনলাইন পোর্টাল খোলা হয়েছে, যাদের না আছে কোনো সম্পাদকীয় নীতিমালা, না আছে পেশাদার কাঠামো। এদের প্রধান লক্ষ্যই হলো সাংবাদিক পরিচয়ে চাঁদাবাজি, ব্ল্যাকমেইল এবং স্বার্থসিদ্ধি। এই শ্রেণির তথাকথিত সাংবাদিকরা যখন নির্বাচন পর্যবেক্ষণের মতো সংবেদনশীল কাজে কার্ড পায়, তখন নির্বাচনের স্বচ্ছতা যেমন প্রশ্নবিদ্ধ হয়, তেমনি মাঠপর্যায়ে কর্মরত প্রকৃত সংবাদকর্মীরা চরম বিড়ম্বনার শিকার হন।
প্রশাসন এবং নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বোঝা উচিত, যাচাই-বাছাইহীন এই কার্ড বিতরণ আসলে বিষবৃক্ষে জল ঢালার মতো। এর ফলে প্রকৃত সাংবাদিকতার মর্যাদা যেমন ক্ষুণ্ন হচ্ছে, তেমনি সাধারণ মানুষের কাছে গণমাধ্যমের বিশ্বাসযোগ্যতা তলানিতে গিয়ে ঠেকছে।
পেশাদার সাংবাদিক সংগঠন এবং তথ্য মন্ত্রণালয়কে এখনই কঠোর অবস্থানে যেতে হবে। সাংবাদিকতার নাম ভাঙিয়ে যারা সমাজকে বিভ্রান্ত করছে, তাদের লাগাম টেনে ধরা সময়ের দাবি। মনে রাখতে হবে, সাংবাদিকতার ভিত্তি হলো সততা ও নৈতিকতা। এই ভিত্তিকে দুর্বল করে কোনো চতুর গোষ্ঠী যেন ক্ষমতার অপব্যবহার করতে না পারে, তা নিশ্চিত করতে হবে।
অপসাংবাদিকতার করাল গ্রাস থেকে এই মহান পেশাকে বাঁচাতে হলে ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের কার্ড প্রদানের ক্ষেত্রে কঠোর ফিল্টারিং বা যাচাই-বাছাই অপরিহার্য। সাংবাদিক পর্যবেক্ষক কার্ড যেন কোনোভাবেই অপরাধীদের ঢাল হিসেবে ব্যবহৃত না হয়।



ফেসবুক কর্নার